ইসলামে নফল ইবাদত বাধ্যতামূলক না হলেও একবার শুরু করার পর তার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, নফল রোজা রাখার পর শারীরিক অসুস্থতা বা বিশেষ কোনো কারণে তা ভেঙে ফেলতে হয়। এমতাবস্থায় শরীয়তের বিধান কী, তা জানা থাকা জরুরি।
আমল রক্ষার গুরুত্ব: কুরআনের নির্দেশনা
যেকোনো ভালো কাজ শুরু করার পর তা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া বা নষ্ট করা পছন্দনীয় নয়। পবিত্র কুরআনের সুরা মুহাম্মদে (আয়াত: ৩৩) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
‘তোমরা তোমাদের আমলসমূহকে নষ্ট করো না।’
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, শরীয়তসম্মত কোনো গুরুতর কারণ ছাড়া নফল রোজা ভেঙে ফেলা অনুচিত।
নফল রোজা ভাঙলে কি কাজা করতে হয়?
হানাফি মাযহাবের ইমামদের মতে, কেউ যদি নফল রোজা রাখা শুরু করেন, তবে তা পূর্ণ করা তার ওপর ওয়াজিব বা আবশ্যক হয়ে যায়। যদি কোনো কারণে সেই রোজাটি ভেঙে যায় (হোক তা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত), তবে পরবর্তীতে তার কাজা আদায় করতে হবে।
হাদিসের প্রমাণ: উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.) একবার নফল রোজা থাকা অবস্থায় ভুলবশত খাবার খেয়ে ফেলেছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি ওই রোজার পরিবর্তে অন্য একদিন রোজা রেখে তা কাজা করে নেন। (সূত্র: তিরমিজি, মেশকাত)
মেহমানদারির খাতিরে রোজা ভাঙা কি জায়েজ?
এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। মেহমান আসার কারণে সাধারণভাবে রোজা ভেঙে ফেলা ঠিক নয়। তবে যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, গৃহকর্তা একসাথে না খেলে মেহমান অত্যন্ত বিব্রতবোধ করবেন বা কষ্ট পাবেন, তবে মেহমানের মন রক্ষার্থে রোজা ভাঙার অনুমতি আছে। তবে এক্ষেত্রেও শর্ত হলো— ভেঙে ফেলা ওই রোজার বদলে পরবর্তীতে একটি কাজা রোজা রাখতে হবে।
কাজা বনাম কাফফারা: পার্থক্য জেনে নিন
অনেকে মনে করেন রোজা ভাঙলে বুঝি দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে হয়। বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন:
কাজা: ১টি রোজার বদলে মাত্র ১টি রোজা রাখা।
কাফফারা: ১টি রোজার বদলে টানা ৬০টি রোজা রাখা।
বিধান: নফল রোজা ভাঙলে কেবল কাজা (১টি রোজা) ওয়াজিব হয়, কোনো কাফফারা (৬০টি রোজা) দিতে হয় না। (সূত্র: আদ্দুররুল মুখতার)
ভুলবশত পানাহারে কি রোজা ভেঙে যায়?
যদি কেউ রোজা থাকা অবস্থায় ভুলবশত অর্থাৎ নিজের অজান্তেই কিছু খেয়ে বা পান করে ফেলেন, তবে তার রোজা ভাঙবে না। মনে পড়ার সাথে সাথে পানাহার বন্ধ করলে রোজা আগের মতোই বহাল থাকবে। এক্ষেত্রে কাজা করারও প্রয়োজন নেই। তবে মনে পড়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে সামান্য কিছু খেলেও রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে।
উল্লেখ্য, নফল ইবাদত হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের অতিরিক্ত মাধ্যম। কোনো ওজর বা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আমল নষ্ট না করাই একজন সচেতন মুমিনের পরিচয়। আর যদি অনিবার্য কারণে রোজা ভেঙে যায়, তবে পরবর্তী সুবিধাজনক সময়ে ১টি রোজা কাজা করে নেওয়া আল্লাহর বিধানের প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ।