Thursday 08 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সম্পর্কে যখন সন্দেহ!

ফারহানা নীলা স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:২৫

সব সম্পর্কই শুরু হয় বিশ্বাস দিয়ে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু না-বলা কথা, কিছু অবহেলা আর কিছু অসম্পূর্ণ উপস্থিতি সেই বিশ্বাসের ফাঁকে ফাঁকে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেয়। সঙ্গী যখন সন্দেহ করতে শুরু করেন, তখন শুধু তাকে দোষ দিলে সম্পর্কের জট খুলবে না। বরং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকটাও একবার দেখা জরুরি। কারণ, সন্দেহ এমনি এমনি জন্ম নেয় না।

কী কারণে সন্দেহ— আগে সেটাই জানুন

কোনও মানুষের মনে হঠাৎ করে অবিশ্বাস ঢুকে পড়ে না। এর পেছনে থাকে নির্দিষ্ট কারণ—সময় না দেওয়া, আচরণের পরিবর্তন, আগের কোনও অভিজ্ঞতা কিংবা আপনার অজান্তেই করা কোনও ভুল। সেই কারণ খুঁজে না পেলে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং অবহেলায় তা আরও বেড়ে যাবে। তাই সাবধান হন, আগে শিকড়টা ধরুন।

বিজ্ঞাপন

সম্পর্কের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করুন

নিজের মনকে আগে পরিষ্কার করতে হবে— আপনি কেন এই সম্পর্কে আছেন? সময় কাটানোর জন্য, নাকি ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য? এই প্রশ্নের উত্তর যেমন আপনার জানা জরুরি, তেমনই সঙ্গীকেও তা বোঝানো দরকার। সম্পর্কের উদ্দেশ্য পরিষ্কার হলে ভুল বোঝাবুঝির জায়গা অনেকটাই কমে যায়।

সঙ্গীকে সম্মান না করলে সন্দেহ আসবেই

অনেক সময় সমস্যার মূলেই থাকি আমরা নিজেরা। সঙ্গীকে গুরুত্ব না দেওয়া, তার কথা না শোনা বা একসঙ্গে সময় না কাটানো—এসব থেকেই জন্ম নেয় নিরাপত্তাহীনতা। আর সেই নিরাপত্তাহীনতার নামই একসময় সন্দেহ। তাই সম্পর্ক বাঁচাতে চাইলে সম্মান আর উপস্থিতি—দুটোই সমান জরুরি।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সঙ্গীকে গুরুত্ব দিন

সম্পর্ক মানে একা একা সিদ্ধান্ত নয়। বড় কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সঙ্গীর মতামত জানুন, তাকে যুক্ত করুন। এতে শুধু ভুল কমে না, বরং বিশ্বাসও দৃঢ় হয়। ছোট্ট এই অভ্যাসটাই সম্পর্ককে অনেক নিরাপদ করে তোলে।

একাকিত্ব তৈরি হতে দেবেন না

ব্যস্ততা জীবনের অংশ, কিন্তু ব্যস্ততার আড়ালে সঙ্গী একা হয়ে গেলে সমস্যা শুরু হয়। সময় না পেলে মনে জন্ম নেয় শূন্যতা, আর সেই শূন্যতা থেকেই আসে সন্দেহ। তাই প্রতিদিন না পারলেও, নিয়মিত কিছু সময় শুধু সঙ্গীর জন্য রাখুন। সেটাই সম্পর্কের অক্সিজেন।

তবুও যদি জট না খোলে

সব ক্ষেত্রে দোষ আপনার নাও হতে পারে। বারবার চেষ্টা করেও যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে দ্বিধা করবেন না। কারণ দীর্ঘদিনের সন্দেহ ও মানসিক চাপ একসময় মন খারাপের গণ্ডি পেরিয়ে ডিপ্রেশনের দিকেও নিয়ে যেতে পারে।

খোলামেলা কথোপকথন জরুরি

চুপ করে থাকা সন্দেহকে আরও বড় করে তোলে। শান্তভাবে, অভিযোগ না করে নিজের অনুভূতি আর অবস্থান পরিষ্কার করুন।

কথার সঙ্গে কাজের মিল রাখুন

বিশ্বস্ততা শুধু কথা দিয়ে নয়, আচরণ দিয়েই প্রমাণ হয়। সময় মেনে চলা, প্রতিশ্রুতি রাখা—এই ছোট বিষয়গুলোই বড় বার্তা দেয়।

অপ্রয়োজনীয় গোপনীয়তা এড়িয়ে চলুন

সব কিছু জানানোর প্রয়োজন নেই, তবে অযথা লুকোচুরি সন্দেহ বাড়ায়।
স্বচ্ছতা সম্পর্ককে নিরাপদ করে।

সঙ্গীর অনুভূতিকে হালকা করবেন না

‘তুমি বেশি ভাবছ’— এই বাক্যটি সম্পর্কের ক্ষতি করে। তার ভয় বা সন্দেহকে গুরুত্ব দিন, বুঝতে চেষ্টা করুন।

অতীতের ভুল থাকলে স্বীকার করুন

আগে কোনো ভুল হয়ে থাকলে সেটি অস্বীকার নয়, স্বীকার করাই আস্থা ফেরানোর প্রথম ধাপ।

সময় দিন, চাপ নয়

বিশ্বাস এক দিনে তৈরি হয় না। ধৈর্য ধরুন, সময় দিন—চাপ দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।

সম্মান বজায় রাখুন

সন্দেহের মধ্যেও অসম্মান নয়। সম্মান থাকলে সম্পর্ক টিকে থাকে, বিশ্বাস ফিরে আসার পথও খোলে।

একসঙ্গে ভবিষ্যতের কথা বলুন

পরিকল্পনা, স্বপ্ন আর লক্ষ্য ভাগ করে নিলে সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।

শেষ কথা

বিশ্বাস জোর করে আদায় করা যায় না, কিন্তু সততা, ধৈর্য আর আন্তরিকতায় তা আবার অর্জন করা সম্ভব।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর