সৌন্দর্যের নীরব ভাষা, যেখানে কথা বলে প্রকৃতি। ফুল মানেই কোমলতা, সৌন্দর্য আর উৎসবের আবহ। আর সেই ফুল যদি জায়গা করে নেয় চুলের সাজে— তাহলে পুরো উপস্থিতিই হয়ে ওঠে আলাদা, অনন্য। বাঙালি নারীর সাজে চুলে ফুল নতুন কিছু নয়; তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর ধরন, স্টাইল আর ব্যবহার বদলেছে। বিয়ে, গায়ে হলুদ, পূজা, নববর্ষ কিংবা নিত্যদিনের কোনো বিশেষ মুহূর্ত— সব ক্ষেত্রেই চুলে ফুলের সাজ এনে দিতে পারে এক স্বতঃস্ফূর্ত সৌন্দর্য।
কোন কোন ফুলে সাজানো যায় চুল?
জুঁই ও বেলি –
সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ক্লাসিক। ছোট সাদা ফুল, মিষ্টি সুবাস আর সহজলভ্যতার কারণে খোঁপা বা বেণিতে জুঁই-বেলির মালা চিরকালীন পছন্দ।
গোলাপ-
লাল, গোলাপি কিংবা সাদা—একটি বা কয়েকটি গোলাপই যথেষ্ট। খোঁপার এক পাশে বা ঢিলেঢালা চুলে গুঁজে দিলে লুক হয় রোমান্টিক ও আভিজাত্যপূর্ণ।
গাঁদা –
রঙিন ও প্রাণবন্ত। গায়ে হলুদ, লোকজ বা ফোক সাজে গাঁদা ফুল দারুণ মানায়। খোঁপা বা মোটা বেণির সঙ্গে ব্যবহার করা যায়।
রজনীগন্ধা –
লম্বা ও সুগন্ধি এই ফুল বিশেষ অনুষ্ঠান ও সন্ধ্যার সাজে মানানসই। খোঁপা বা খোঁপার চারপাশে ব্যবহার করলে রাজকীয় ভাব আসে।
অর্কিড ও লিলি –
আধুনিক ও ফিউশন সাজের জন্য উপযোগী। এক বা দুইটি বড় ফুল খোলা চুলের পাশে বা লো বান-এর সঙ্গে ভালো মানায়।
শেফালি (শিউলি) –
সাদামাটা অথচ আবেগঘন। পূজা বা ঘরোয়া আয়োজনে হালকা সাজে শিউলি ব্যবহার করলে আলাদা মাধুর্য যোগ হয়।
চুলের স্টাইল কেমন হবে?
খোঁপা (Bun Style) –
সবচেয়ে নিরাপদ ও জনপ্রিয়। লো বান, সাইড বান কিংবা মেসি বান—যেকোনো স্টাইলেই ফুল সহজে বসানো যায়। অফিসিয়াল অনুষ্ঠান থেকে বিয়ে—সব ক্ষেত্রেই মানানসই।
বেণি বা খোঁপা-বেণি মিশ্রণ –
লম্বা চুলে বেণির ফাঁকে ফাঁকে ছোট ফুল গুঁজে দিলে লুক হয় ঐতিহ্যবাহী। বিশেষ করে পিঠের দিকে নামানো বেণিতে জুঁই বা বেলি দারুণ লাগে।
খোলা চুল –
ঢেউ খেলানো খোলা চুলের এক পাশে একটি বড় ফুল বা কয়েকটি ছোট ফুল আধুনিক ও সাবলীল লুক দেয়। ফিউশন বা ইন্ডো-ওয়েস্টার্ন পোশাকে মানানসই।
হাফ আপ–হাফ ডাউন –
চুলের উপরের অংশ বাঁধা, নিচের অংশ খোলা—এই স্টাইলে ফুল যোগ করলে লুক হয় ইয়াং ও ফ্রেশ। ছোট অনুষ্ঠান বা ডে পার্টির জন্য ভালো।
ফুলের সাজে কিছু পরামর্শ
তাজা ফুল ব্যবহার করুন, প্রয়োজনে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিন।
চুলে ফুল লাগানোর আগে হেয়ার স্প্রে বা জেল ব্যবহার করলে ফুল বেশিক্ষণ টিকে থাকে।
ফুলের রং যেন পোশাক ও গয়নার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
অতিরিক্ত ফুল ব্যবহার না করে পরিমিত রাখাই সুন্দর।
অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে সুগন্ধি ফুল এড়িয়ে চলুন।
শেষ কথা
চুলে ফুল মানেই শুধু সাজ নয়—এ এক অনুভূতি। কখনো উৎসবের উচ্ছ্বাস, কখনো নরম ভালোবাসা, আবার কখনো নিজের সঙ্গে নিজের উৎসব। তাই বিশেষ দিনের অপেক্ষা না করে, মন ভালো করার জন্যও কখনো কখনো চুলে একটি ফুল গুঁজে নেওয়াই যথেষ্ট।
প্রচ্ছদের ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত