Sunday 01 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অফিস সহকর্মীর সঙ্গে যেভাবে সুসম্পর্ক বজায় রাখবেন

ফারহানা নীলা স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:২২ | আপডেট: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:২৪

অফিসে কাজ মানেই শুধু ফাইল, মিটিং আর ডেডলাইন নয়। এটা মানুষে মানুষে সম্পর্কেরও জায়গা। দিনের বড় একটা সময় যাদের সঙ্গে কাটে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না হলে কাজের আনন্দও ম্লান হয়ে যায়। তাই সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার কৌশল।
ভদ্রতা এখনো সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র

একটু হাসি ও ধন্যবাদ বলা

এসব ছোট বিষয়ই অফিসের পরিবেশটা হালকা করে তোলে। ভালো ব্যবহার কাউকে ছোট করে না, বরং আপনাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। অনেক সময় দক্ষতার চেয়েও ব্যবহার মানুষকে এগিয়ে দেয়।

কথা বলার চেয়ে শোনা বেশি জরুরি

সবাই নিজের কথা বলতে ভালোবাসে, কিন্তু অফিসে যে মানুষটা মন দিয়ে শোনে, তার গুরুত্ব আলাদা। সহকর্মীর কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা মানে তাকে সম্মান দেওয়া। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমে, সম্পর্কও হয় স্বচ্ছ।

বিজ্ঞাপন

গসিপে পা দিলে পেছনে ফেরার রাস্তা থাকে না

আজ যে গল্পটা মজা লাগছে, কাল সেটাই আপনার জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। অফিসের কান খুব লম্বা, আর কথা খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই কে কী করল, কে কী বলল, এসব নিয়ে অযথা মাথা ঘামানো থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ।

কাজের সাফল্য একা নিজের নামে লিখবেন না

কোনো কাজ ভালো হলে পুরো কৃতিত্ব নিজের ঝুলিতে ভরার লোভ সামলানো দরকার। সহকর্মীদের অবদান স্বীকার করলে আপনি ছোট হন না, বরং বড় হন। অফিসে সবাই সেই মানুষটার সঙ্গে কাজ করতে চায়, যে অন্যকে সম্মান দিতে জানে।

মতের অমিল হতেই পারে, আচরণে অমিল নয়

সব বিষয়ে একমত হওয়া অসম্ভব। কিন্তু মতবিরোধ মানেই মুখ ভার করা বা দূরত্ব তৈরি করা নয়। পেশাদারভাবে যুক্তি তুলে ধরা আর ভিন্ন মতকে সম্মান করাই সুস্থ অফিস সংস্কৃতির লক্ষণ।

ধার-দেনা অফিস সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ফাঁদ

অফিসে টাকা-পয়সার লেনদেন যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। আজ ধার নিলেন, কাল দিতে দেরি হলো, ব্যস, সম্পর্কের মধ্যে অস্বস্তি ঢুকে গেল। কাজের জায়গায় আর্থিক বিষয় ঢুকে পড়লে পেশাদার সম্পর্ক খুব সহজেই ব্যক্তিগত জটিলতায় পরিণত হয়।

অফিস প্রেম নয়, পেশাদার দূরত্বই নিরাপদ

সহকর্মীর প্রতি ভালো লাগা হতেই পারে, কিন্তু সরাসরি প্রেমের প্রস্তাব অফিসের পরিবেশকে বিব্রতকর করে তুলতে পারে। এতে শুধু দু’জন নয়, আশপাশের মানুষও অস্বস্তিতে পড়ে। কাজের জায়গায় ব্যক্তিগত অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই বুদ্ধিমানের।

অতিরিক্ত প্রশংসা বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে

ভালো কাজের প্রশংসা অবশ্যই করা উচিত, কিন্তু অতিরিক্ত তোষামোদ অনেক সময় উল্টো ফল দেয়। বারবার প্রশংসা করলে সেটার মূল্য কমে যায় এবং মানুষ সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠে। আন্তরিক আর সময়োপযোগী প্রশংসাই সবচেয়ে কার্যকর।

নিজেকে জাহির না করাই বুদ্ধিমানের

নিজের কাজ ভালো হলে সেটি এমনিতেই চোখে পড়ে। বারবার নিজের সাফল্যের গল্প বলা বা নিজেকে সেরা প্রমাণ করার চেষ্টা অনেকের কাছে বিরক্তিকর লাগতে পারে। অফিসে নীরব দক্ষতা অনেক সময় সবচেয়ে জোরালো ভাষা।
নেতিবাচকতা ছড়ালে পরিবেশটাই ভারী হয়ে যায়।

সব সময় অভিযোগ

হতাশা আর নেতিবাচক কথা বললে সহকর্মীরা ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়। সমস্যা থাকলে সমাধানের ভাষায় কথা বলা ভালো, নালিশের ভাষায় নয়। ইতিবাচক মানুষদের সঙ্গেই সবাই থাকতে চায়।

ব্যক্তিগত সীমারেখা মানা সম্পর্ক বাঁচায়

সব সহকর্মী বন্ধু হবেন এমন নয়। কে কতটা ব্যক্তিগত কথা শেয়ার করতে চান, সেটা বোঝা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় কৌতূহল বা ব্যক্তিগত বিষয়ে বাড়াবাড়ি সম্পর্কের মধ্যে অদৃশ্য দেয়াল তুলে দেয়।

হালকা হাসিই অফিসের সবচেয়ে ভালো বিরতি

কাজের ফাঁকে একটু রসিকতা, চায়ের সময় ছোট গল্প, এসবই সম্পর্ককে প্রাণবন্ত করে তোলে। তবে রসিকতা যেন কাউকে আঘাত না করে বা বিব্রত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকাই বুদ্ধিমানের।

শেষ কথা

সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে আচরণ, সচেতনতা আর সংযম থেকে। কী বলা উচিত, তার চেয়েও অনেক সময় কী না বলাই বেশি জরুরি। অফিস যদি দ্বিতীয় বাড়ি হয়, তাহলে সেই বাড়ির পরিবেশটাকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব সবারই।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর