Monday 16 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যে সকল মানুষদের এড়িয়ে চলা ভালো

ফারহানা নীলা স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:১১ | আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৩

জীবনে আমরা অনেক মানুষের সঙ্গে পথ চলি। বন্ধু, সহকর্মী, আত্মীয়, পরিচিত। কেউ আমাদের শক্তি যোগায়, কেউ আবার অজান্তেই মনখারাপের কারণ হয়ে ওঠে। সব সম্পর্ক ছিন্ন করা সমাধান নয়; তবে নিজের মানসিক সুস্থতা রক্ষায় কিছু মানুষকে একটু দূরত্বে রাখা প্রয়োজন। এটি কাউকে ঘৃণা করা নয় বরং নিজেকে সুরক্ষিত রাখা।

সবসময় নেতিবাচক মানুষ

যাদের কথায় সবসময় হতাশা, অভিযোগ, সমালোচনা। তারা অজান্তেই আপনার ইতিবাচক শক্তি শুষে নিতে পারে।

‘কিছুই হবে না’, ‘তুমি পারবে না’, ‘সব শেষ’- এমন বাক্যগুলো যদি নিয়মিত শোনেন, ধীরে ধীরে নিজের আত্মবিশ্বাসও নড়ে যায়।

কী করবেন?

সম্পর্ক ছিন্ন না করেও সীমা নির্ধারণ করুন। প্রয়োজন ছাড়া গভীর আলোচনায় না জড়ানোই ভালো।

বিজ্ঞাপন

গোপন কথা ফাঁস করে এমন মানুষ

বিশ্বাস সম্পর্কের ভিত্তি। কিন্তু কেউ যদি বারবার আপনার ব্যক্তিগত কথা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়, সেটি মানসিকভাবে ক্ষতিকর।

কী করবেন?

এমন মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয় শেয়ার করা বন্ধ করুন। দূরত্ব বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণপ্রবণ মানুষ

যারা আপনার পোশাক, চলাফেরা, সিদ্ধান্ত – সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তারা ধীরে ধীরে আপনার স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারে।

প্রেম, বন্ধুত্ব বা পারিবারিক সম্পর্ক কোনোটিতেই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ স্বাস্থ্যকর নয়।

কী করবেন?

নিজের সীমারেখা স্পষ্ট করুন। প্রয়োজনে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে শিখুন।

সবসময় নিজেকে ‘ভিকটিম’ ভাবেন যারা

প্রত্যেক সমস্যার জন্য অন্যকে দায়ী করা, কখনো নিজের ভুল স্বীকার না করা।এমন মানুষদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে।

কী করবেন?

সহানুভূতি রাখুন, কিন্তু তাদের নাটকীয়তায় জড়িয়ে পড়বেন না।

আপনার সাফল্যে অস্বস্তি বোধ করে এমন মানুষ

আপনার সাফল্যে যারা আনন্দিত না হয়ে হিংসা করে, কটাক্ষ করে বা ছোট করার চেষ্টা করে।তারা আপনার আত্মবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

কী করবেন?

নিজের অর্জন নিয়ে অপরাধবোধে ভুগবেন না। ইতিবাচক মানুষদের সান্নিধ্য খুঁজুন।

মানসিকভাবে অবমাননাকর মানুষ

ঠাট্টার ছলে অপমান, বারবার ছোট করা, গ্যাসলাইটিং এসব আচরণ মানসিক নির্যাতনের অংশ হতে পারে।

দীর্ঘদিন এ ধরনের আচরণ সহ্য করলে আত্মসম্মান কমে যায়।

কী করবেন?

নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। প্রয়োজনে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসুন।

সুযোগসন্ধানী সম্পর্ক

যারা শুধুমাত্র প্রয়োজনের সময় যোগাযোগ করে।কাজ হয়ে গেলে আর খোঁজ নেয় না।তারা আসলে সম্পর্ক নয়, সুবিধা খোঁজে।

কী করবেন?
সমান মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ুন।

শেষ কথা

দূরত্ব মানেই শত্রুতা নয় সবাইকে খুশি রাখা সম্ভব নয়। কখনো কখনো নিজেকে বাঁচাতে দূরে সরে আসাই সবচেয়ে বড় আত্মসম্মান।

মনে রাখবেন; আপনার মানসিক শান্তি কারও অপ্রয়োজনীয় উপস্থিতির চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।

জীবনে এমন মানুষ রাখুন, যারা আপনাকে ছোট করে না, বরং বড় হতে সাহায্য করে।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

যে সকল মানুষদের এড়িয়ে চলা ভালো
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:১১

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর