আমাদের শরীরের ভারসাম্য রক্ষার জন্য মস্তিষ্ক মূলত চোখ এবং কানের ভেতরের অংশ (অন্তকর্ণ) থেকে আসা সংকেতের ওপর নির্ভর করে। আপনি যখন গাড়ির গতির বিপরীত দিকে মুখ করে বসেন, তখন চোখ দেখে যে আপনি পেছনের দিকে সরে যাচ্ছেন। কিন্তু আপনার অন্তকর্ণ অনুভব করে যে গাড়িটি সামনের দিকে এগোচ্ছে।
মস্তিষ্ক যখন এই দুটি ভিন্নধর্মী ও বিপরীতমুখী সংকেত একসাথে পায়, তখন সে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এই স্নায়ুবিক গোলমালের কারণেই শরীরে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং বমি বমি ভাব শুরু হয়।
পূর্বাভাসের অভাব ও ঝাঁকুনি
গাড়ির গতির দিকে মুখ করে বসলে আমাদের চোখ সামনের রাস্তা দেখতে পায়। ফলে গাড়ি কখন মোড় নেবে বা ব্রেক কষবে, তা মস্তিষ্ক আগেভাগেই আঁচ করতে পারে এবং শরীরকে প্রস্তুত রাখে। কিন্তু উল্টো দিকে বসলে এই পূর্বাভাস পাওয়া অসম্ভব। ফলে হঠাৎ ঝাঁকুনি বা বাঁক নেওয়ার সময় শরীর তাল মেলাতে পারে না, যা মোশন সিকনেসকে আরও বাড়িয়ে দেয়— বিশেষ করে পাহাড়ি বা আঁকাবাঁকা রাস্তায়।
অস্বস্তি এড়াতে যা করবেন
ভ্রমণকে আরামদায়ক করতে কিছু কার্যকর কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে:
* স্থির দৃষ্টি: জানালার বাইরে দিগন্তের কোনো স্থির বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকার চেষ্টা করুন। এটি চোখের বিভ্রান্তি কমাতে সাহায্য করে।
* চোখ বন্ধ রাখা: যদি খুব বেশি খারাপ লাগে, তবে চোখ বন্ধ করে সিটে মাথা হেলান দিয়ে বিশ্রাম নিন। এতে মস্তিষ্ক দৃশ্যমান সংকেত নেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং অস্থিরতা কমে।
* মোবাইল বা বই এড়িয়ে চলা: চলন্ত অবস্থায় উল্টো দিকে বসে মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা বা বই পড়া সবচেয়ে বড় ভুল। এটি মস্তিষ্ক ও চোখের সংকেতের পার্থক্য আরও বাড়িয়ে দেয়, ফলে দ্রুত বমি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
* মাঝামাঝি আসন: বাসের ক্ষেত্রে চাকার ওপরের সিট এড়িয়ে মাঝখানের সিটে বসার চেষ্টা করুন। সেখানে ঝাঁকুনি তুলনামূলক কম অনুভূত হয়।
* মনোযোগ ঘুরিয়ে দেওয়া: পছন্দের গান শোনা বা পাশের যাত্রীর সাথে গল্পে মেতে উঠলে অস্বস্তির দিকে মনোযোগ কম যায়।
* সামান্য সচেতনতা আর সঠিক সিট নির্বাচন আপনার ভ্রমণকে করতে পারে আনন্দময় ও যন্ত্রণামুক্ত।