হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে যেকোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে। শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায় এবং সাধারণত সংক্রমণের প্রায় দুই সপ্তাহ পর এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। শুরুতে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও চোখ লাল হয়ে যাওয়া দেখা দেয়। পরে শরীরে লাল ফুসকুড়ি ওঠে, যা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে।
হাম হলে শিশুর লক্ষণ
– উচ্চমাত্রার জ্বর
– কাশি ও সর্দি
– চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া
– শরীরে লালচে ফুসকুড়ি
কী ধরনের খাবার খাওয়াবেন
হাম থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য শিশুকে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
১. তরল ও সহজপাচ্য খাবার
রোগের শুরুতে শিশুর ক্ষুধা কমে যায়, তাই কমলা, লেবু বা অন্যান্য ফলের রস দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি পানি, স্যুপ, ডাবের পানি ইত্যাদি বেশি করে খাওয়াতে হবে যাতে পানিশূন্যতা না হয়।
২. ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার
গাজর, মিষ্টি আলু, পালং শাক ও ব্রকলি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং রোগের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৩. প্রোটিনযুক্ত খাবার
শরীরের পুনরুদ্ধারে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাছ, মুরগি, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখুন।
৪. জিংকসমৃদ্ধ খাবার
জিংক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। লাল মাংস, মুরগি, শিম, বাদাম ও গোটা শস্য এতে উপকারী।
৫. ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার
লেবুজাতীয় ফল, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম ও কিউই রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং শরীরকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়
চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার: হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে
ঝাল খাবার: গলা ব্যথা ও কাশি বাড়াতে পারে
ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়: শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে
অতিরিক্ত করণীয়
হাম খুব দ্রুত ছড়ায় তাই আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পরিচর্যা শিশুর দ্রুত সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যদি শিশুর অবস্থার অবনতি হয় বা কোনো জটিলতা দেখা দেয়। তাহলে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।