ব্যস্ত শহরে একাকিত্ব কাটাতে একটি পোষা প্রাণীর বিকল্প নেই। ফ্ল্যাট বাড়ির চার দেয়ালে একটি বিড়াল বা কুকুরের মায়াবী উপস্থিতি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ কার্যকর। তবে হুট করে কোনো প্রাণীকে ঘরে নিয়ে আসা যতটা সহজ, তার দায়িত্ব পালন করা ঠিক ততটাই চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে যারা কর্মব্যস্ত এবং অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন, তাদের জন্য বিষয়টি আরও জটিল।
আপনার বাড়িতে নতুন কোনো অতিথি আনার আগে নিচের জরুরি বিষয়গুলো অবশ্যই মিলিয়ে নিন…
মাসিক বাজেটে বাড়তি চাপ
শৌখিনতা মানেই খরচ। একটি প্রাণীর পেছনে কেবল খাবারই নয়, বরং টিকা, গ্রুমিং, খেলনা এবং অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য মাসে একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা গুনতে হবে। শহরের যান্ত্রিক জীবনে ভালো মানের ‘পেট ফুড’ বেশ ব্যয়বহুল। তাই নিজের বাজেটের সাথে পোষ্যের খরচের সামঞ্জস্য আছে কি না, তা আগে নিশ্চিত করুন।
অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাটকে নিরাপদ করা
একটি প্রাণী বাড়িতে আসার অর্থ হলো আপনার সাজানো ঘরের ভোল বদলে যাওয়া। ইনডোর প্ল্যান্টগুলো বিড়ালের নাগালের বাইরে রাখুন (কারণ অনেক গাছ তাদের জন্য বিষাক্ত হতে পারে)। কুকুরের কামড় থেকে বাঁচাতে ইন্টারনেটের তার বা ইলেকট্রিক কর্ডগুলো ভালো করে ঢেকে দিন। এছাড়া বারান্দা ও জানালায় নেট লাগানো এখনকার ফ্ল্যাটগুলোতে নিরাপত্তার প্রধান শর্ত।
কোয়ালিটি টাইম বা সময় দেওয়া
শহরের ব্যস্ত জীবনে নিজের জন্য সময় পাওয়া যেখানে দায়, সেখানে একটি প্রাণীকে সময় দেওয়া বড় ত্যাগ। নিয়মিত তাকে হাঁটানো, আদর করা কিংবা খেলাধুলা করার জন্য আপনার হাতে সময় আছে কি না ভেবে দেখুন। আপনি দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে আপনার পোষ্য বিষণ্নতায় (Separation Anxiety) ভুগতে পারে।
খাবারের অভ্যাস ও পুষ্টি
মানুষের খাবার আর প্রাণীদের খাবার এক নয়। আপনার পাতের খাবার শখ করে খাওয়ালে হিতে বিপরীত হতে পারে। টিনজাত খাবার, ড্রাই ফুড নাকি বাড়িতে বানানো মাছ-মাংসের খাবার—কোনটি আপনার পোষ্যের জন্য উপযুক্ত, তা শুরুতেই নির্ধারণ করুন। তাদের লোভী চাহনিতে গলে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর কিছু খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন।
ঘুমানোর জায়গা ও লিটার ট্রেনিং
শুরুতেই আপনার পোষ্যের জন্য ঘরের একটি নির্দিষ্ট কোণ বরাদ্দ করুন। সেখানে তার বিছানা, খাবারের বাটি এবং মলমূত্র ত্যাগের জন্য ‘লিটার বক্স’ রাখুন। অ্যাপার্টমেন্টে দুর্গন্ধ এড়াতে শুরু থেকেই তাকে নির্দিষ্ট স্থানে টয়লেট করার প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। তা না হলে সারা ঘর আপনার বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
শহুরে জীবনে ব্যায়াম ও কায়িক শ্রম
কুকুরদের জন্য বাইরে হাঁটানো বাধ্যতামূলক, যা অনেক সময় শহরের জনাকীর্ণ রাস্তায় কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে বিড়ালরা নিশাচর হওয়ায় সন্ধ্যার পর তাদের সাথে খেলুন। এতে তাদের বাড়তি শক্তি ব্যয় হবে এবং রাতে তারা আপনাকে শান্তিতে ঘুমানোর সুযোগ দেবে।
গোসল ও পরিচ্ছন্নতার চ্যালেঞ্জ
অধিকাংশ প্রাণীই গোসল করতে অনীহা প্রকাশ করে। অ্যাপার্টমেন্টে ছোট বাথরুমে তাদের গোসল করানো এবং লোম পরিষ্কার রাখা বেশ ধৈর্য সাপেক্ষ কাজ। লোম পড়ার সমস্যা থাকলে নিয়মিত ব্রাশ করার মানসিক প্রস্তুতি রাখুন।
হাতের নাগালে নির্ভরযোগ্য ‘ভেট’
আপনার বাসার কাছাকাছি কোনো অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসক বা ভেটেরিনারি ক্লিনিক আছে কি না তা আগেভাগেই জেনে নিন। সময়মতো টিকা (Vaccination) দেওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো একটি সুস্থ পোষ্য পালনের প্রধান শর্ত। জরুরি প্রয়োজনে কোথায় নিতে হবে, সেই ফোন নম্বরগুলো আগে থেকেই সেভ করে রাখুন।
উল্লেখ্য, একটি প্রাণীকে পালার সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে একটি শিশুর দায়িত্ব নেওয়া। শহুরে ব্যস্ততায় যদি আপনি এই দায়িত্বগুলো হাসি মুখে পালন করতে পারেন, তবেই নতুন সঙ্গীকে ঘরে আমন্ত্রণ জানান।