Monday 13 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বৈশাখী সাজে গহনার আলপনা

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:০৪

পহেলা বৈশাখ মানেই তপ্ত রোদে এক চিলতে প্রশান্তি আর লাল-সাদার চিরায়ত আবেশে নিজেকে রাঙিয়ে নেওয়া। তবে কেবল শাড়ি বা পাঞ্জাবিতে বৈশাখী পূর্ণতা আসে না, যদি না তার সঙ্গে মানানসই গহনার সঠিক মেলবন্ধন ঘটে। এবারের বৈশাখে গহনার ট্রেন্ডে দেখা যাচ্ছে এক দারুণ বিবর্তন, যেখানে মাটির সোঁদা গন্ধ আর ধাতব আধুনিকতা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ভারী সোনার গহনার বদলে এখনকার ফ্যাশন সচেতন নারীরা বেছে নিচ্ছেন হাতে গড়া মাটির দুল, কাঠের মালা কিংবা অক্সিডাইজড রুপার নকশা করা ঝুমকো। এই বৈচিত্র্যময় গহনাগুলো শুধু আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতিকে এক আধুনিক জীবনশৈলীর ফ্রেমে বন্দি করে। বিশেষ করে উৎসবের প্রথম প্রহরে যখন ভোরের আলোয় লাল পেড়ে সাদা শাড়িতে বাঙালি ললনারা রাজপথ রাঙায়, তখন তাদের গহনার ঝংকার জানান দেয় এক নতুন শুরুর বার্তা।

বিজ্ঞাপন

মাটি ও কাঠের ছোঁয়ায় গ্রামীণ সজীবতা ও আধুনিকতা

বৈশাখের তপ্ত দুপুরে যখন প্রকৃতি রুক্ষ হয়ে ওঠে, তখন মাটির গহনা দেয় এক অদ্ভুত শীতলতার অনুভূতি। নকশা করা পোড়ামাটির গলার হার কিংবা কানের ঝুমকোতে এখন যুক্ত হচ্ছে লোকজ মোটিফ, যেমন লতা-পাতা, মাছ, কিংবা শখের হাঁড়ির কারুকাজ। অন্যদিকে, কাঠের তৈরি জ্যামিতিক নকশার গহনাগুলো এখনকার তরুণীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কাঠের পুঁতি আর সুতোর কাজের সংমিশ্রণে তৈরি এই গহনাগুলো সুতি বা তাতের শাড়ির সঙ্গে পরলে এক ধরণের স্নিগ্ধ আভিজাত্য ফুটে ওঠে। এই গহনাগুলোর বিশেষত্ব হলো এদের হালকা ওজন, যা সারাদিনের মেলায় ঘুরে বেড়ানো বা বন্ধুদের আড্ডায় আপনাকে রাখে ক্লান্তিহীন ও সপ্রতিভ। গ্রামীণ কারিগরদের নিপুণ হাতে তৈরি এই গহনাগুলো যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনি এগুলো আমাদের শেকড়ের গল্প বলে যা আধুনিক নাগরিক জীবনে এক টুকরো গ্রামবাংলার স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।

নাকের নথ ও মাথার টিকলিতে চিরায়ত আভিজাত্য

বৈশাখী সাজে পূর্ণতা আনতে নাকের নথ এবং মাথার টিকলি এখনকার ফ্যাশনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নিয়েছে। একসময় বড় নথ বা টিকলি শুধুমাত্র বিয়ের সাজে সীমাবদ্ধ থাকলেও, বর্তমানে উৎসবে এক বিশেষ আভিজাত্য যোগ করতে এর জুড়ি নেই। একটি টানা দেওয়া বড় নথ আপনার সাধারণ সাজকেও মুহূর্তেই করে তুলতে পারে অতি সাধারণ থেকে অসাধারণ। রুপা বা তামার ওপর কুন্দন বা মীনা করা নথ এখন সব বয়সের নারীদের কাছেই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। অন্যদিকে, কপালে একটি সুন্দর টিকলি পরলে চেহারায় এক ধরণের আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য ফুটে ওঠে, যা উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সিঁথির ঠিক মাঝখানে ঝোলানো মেটাল বা রুপার টিকলি এখনকার তরুণীদের অন্যতম পছন্দের অনুষঙ্গ, যা একাধারে ঐতিহ্যবাহী এবং ট্রেন্ডি লুক নিশ্চিত করে।

ধাতব রুপা ও বিডসের আধুনিক যুগলবন্দি

যাঁরা একটু গর্জাস লুক পছন্দ করেন, তাদের জন্য অক্সিডাইজড বা এন্টিক ফিনিশড রুপার গহনা হতে পারে সেরা পছন্দ। বিশেষ করে বড় একটি সীতাহার বা কানপাশা আপনার সাধারণ সাজে নিয়ে আসতে পারে রাজকীয় আভিজাত্য। ইদানীং রুপার ওপর মিনা করা কাজ কিংবা পাথর বসানো গহনাগুলোও বৈশাখী উৎসবে বেশ নজর কাড়ছে। এর পাশাপাশি মাল্টিকালার বিডস বা কাঁচের পুঁতির মালা এখনকার লাইফস্টাইলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শাড়ির রঙের সাথে মিলিয়ে বা একদম কন্ট্রাস্ট করে এই রঙিন পুঁতির মালাগুলো পরলে চেহারায় এক ধরণের প্রাণবন্ত ভাব চলে আসে, যা বৈশাখের উৎসবী আমেজের সাথে পুরোপুরি মানানসই। ভারী গহনার সাথে সুতোর কাজ বা সিল্কের কাপড়ের ব্যবহার গহনার আধুনিকায়ন ঘটিয়েছে যা ঐতিহ্যকে ম্লান না করেই রুচিশীলতা বজায় রাখে।

ফুলের গহনা ও চুলের সাজে নতুনত্ব

নববর্ষের সকালটা মানেই যেন খোঁপায় বেলি ফুলের মালা আর হাতে একগুচ্ছ রেশমি চুড়ি। তবে শুধু টাটকা ফুল নয়, এখন কাপড়ের তৈরি ফ্লোরাল জুয়েলারিও ফ্যাশনে ইন। কৃত্রিম কিন্তু জীবন্ত দেখতে এই গহনাগুলো সারাদিন নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না। চুলের সাজে বড় একটি খোঁপা করে তার চারপাশে রূপালি কাঁটা বা ফুল গুঁজে দিলে সাজে এক ধরণের ক্ল্যাসিক লুক তৈরি হয়। তবে মনে রাখতে হবে, গহনা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যই সবার আগে। আপনি যদি কানে বড় দুল পরেন, তবে গলায় কিছু না পরাই ভালো; আবার গলায় যদি ভারী কোনো নেকলেস থাকে, তবে কানে ছোট টপ পরেই সাজ পূর্ণ করা যায়। আর হাতের রেশমি চুড়ির রিনঝিন শব্দ বৈশাখের উৎসবকে যেন আরও মধুময় করে তোলে, যা বাঙালির এই সর্বজনীন উৎসবে যোগ করে এক মায়াবী স্নিগ্ধতা।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

বৈশাখী সাজে গহনার আলপনা
১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:০৪

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর