ঢাকা: শীত মৌসুম শেষ না হতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সবজির বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও গত দুই সপ্তাহে কোনো কোনো সবজির দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে চাল, চিনি ও ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের সংসার ব্যয়ের চাপ আরও বেড়েছে।

কাঁচাবাজার। ছবি: সারাবাংলা
গত এক সপ্তাহে টমেটো, বেগুন, করলা, বরবটি, লাউ, শিম, মুলাসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর আগের সপ্তাহেও সবজির দাম কেজিতে গড়ে ১০ টাকা বৃদ্ধি পায়। ফলে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো কোনো সবজির দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচা, মালিবাগ, মানিকনগর ও খিলগাঁও বাজার ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমি সবজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০–৮০ টাকা কেজি, করলার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে কেজিতে ১২০ টাকায়। শিম ৪০–৫০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, মটরশুঁটি ১৩০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ছবি: সারাবাংলা
এ ছাড়া ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং ব্রোকলি প্রতিটি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে দাম বাড়ার পেছনে দৃশ্যমান কোনো বড় কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শীত মৌসুমের প্রায় সব ধরনের সবজির সরবরাহ বাজারে পর্যাপ্ত রয়েছে। এমনকি ব্যবসায়ীরাও মূল্যবৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারছেন না।
ভাষানটেক বাজারের সবজি বিক্রেতা নূর মোহামমদ বলেন, ‘আড়তেও দাম বাড়তি, তাই আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু কেন বাড়তি—সেটা আমরাও জানিনা।’
কিছু ব্যবসায়ীর ধারণা, ইরি–বোরো ধানের আবাদ শুরু হওয়ায় অনেক কৃষক সবজি চাষ কমিয়ে দিয়েছেন, ফলে উৎপাদন উৎসে দাম কিছুটা বেড়েছে।
সবজির পাশাপাশি চালের বাজারেও দাম বাড়ছে। গত দুই সপ্তাহে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরু চালগুলোর বেশির ভাগই বোরো মৌসুমের ধান থেকে উৎপাদিত হয়। বর্তমানে বোরোর আবাদ শুরু হলেও নতুন ধান বাজারে আসতে সময় লাগবে, ফলে পুরোনো ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।

চালের দোকান। ছবি: সারাবাংলা
খুচরা বাজারে বর্তমানে— শম্পা কাটারি চাল: ৭৮–৮০ টাকা কেজি, জিরাশাইল ও কাটারি নাজির: ৭৮–৮০ টাকা কেজি, নাজিরশাইল: ৮০–৮২ টাকা কেজি, নওগাঁয় পাইকারি বাজারে জিরাশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭০–৭২ টাকা এবং কাটারি চাল ৭২–৭৪ টাকায়।
চাল ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ‘পুরোনো ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারিতে কেজিতে ১–২ টাকা দাম বেড়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে আরও বেশি পড়েছে।’

ছবি: সারাবাংলা
ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে কেজিতে ১৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ টাকা। ডিমের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও সেটিও উচ্চ পর্যায়ে—ডজনপ্রতি ১১৫–১২০ টাকা।
আর মাত্র এক মাস পর শুরু হবে পবিত্র রমজান মাস। এর আগেই বাজারে এমন ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ক্রেতারা। তাদের আশঙ্কা, রমজান শুরু হলে আরও অনেক পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
ক্রেতারা বলছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেটের প্রভাব ঠেকাতে এখনই কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন। তা না হলে আসন্ন রমজানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও অসহনীয় হয়ে উঠবে।