Friday 20 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

টেকসই কৃষি উন্নয়নই খাদ্য নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ: কৃষিমন্ত্রী

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩২

কুমিল্লায় কৃষিমন্ত্রী কথা বলেছেন কৃষির টেকসই উন্নয়ন নিয়ে।

কুমিল্লা: জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার মূল চাবিকাঠি হলো কৃষি—এমন মন্তব্য করেছেন কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।

তিনি বলেন, ‘দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। তাই কৃষিখাতকে টেকসই ও আধুনিক করা ছাড়া অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করা সম্ভব নয়। কৃষি শক্তিশালী হলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, আর গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হলে পুরো দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে।’

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লা সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী জানান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই সরকার কাজ করছে। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের বড় অংশ কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে সর্বাধিক উপকৃত হবে গ্রামীণ জনপদ ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতি।

কৃষিজমিতে হেভি মেটালের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি জানান, এ সমস্যা মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক গবেষণা, মাটি পরীক্ষা, পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ ও জৈব উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ ছাড়া, গোমতী (কুমিল্লা) নদীর চর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা প্রসঙ্গে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আজ থেকে গোমতীর এক ইঞ্চি মাটিও কেউ কাটতে পারবে না। নদী ও কৃষিজমি রক্ষার ক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।’

এ সময় তিনি প্রশাসনকে অবৈধ মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রোগ নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিজের দীর্ঘ ৩০ বছরের কৃষিভিত্তিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে—যাতে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যত নিষ্ঠা ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবেন, দেশের কৃষি উন্নয়ন ততো দ্রুত এগিয়ে যাবে।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রেজা হাসান। আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রউফ, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ান ও পরিচালক শামসুল আলম, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ দফতরের পরিচালক এস. এম. কায়সার আলীসহ বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর