রংপুর: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে রংপুরে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে তার মৃত্যুর খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই নগরীর বিএনপি কার্যালয়, নেতাদের বাসভবন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে কান্নার রোল পড়ে যায়। হাজারো নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ দলীয় কার্যালয়গুলোতে এসে শোক জানাতে থাকেন। অনেকের চোখে জল, অনেকে বুক চাপড়ে কাঁদছেন এমন দৃশ্য দেখা গেছে অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে।
রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিমূর্তি। তার মৃত্যুতে আমরা এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। রংপুরের মাটিতে তার আদর্শ চিরকাল জাগ্রত থাকবে।’
মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক নুরুন্নবী চৌধুরী মিলন বলেন, ‘আমরা শোকাহত। তার অবদানের কথা ভুলে যাওয়ার নয়। তিনি যে সাহস ও নেতৃত্ব দেখিয়েছেন, সেটা আমাদের প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।’
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ একজন অভিভাবক হারালেন। তার মৃত্যুতে পুরো রংপুর শোকাহত।’
রংপুর শহরের বিভিন্ন মোড়ে ও বাসভবনে শোকের ব্যানার ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। অনেকে কালো ব্যাজ ধারণ করে রাস্তায় নেমেছেন। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলকে আরও শক্তিশালী করবেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রংপুরে শোকের এই তীব্রতা প্রমাণ করে, এই অঞ্চলে তার প্রভাব এখনো কতটা গভীর। নেতাকর্মীদের চোখের জলই বলে দিচ্ছে-তিনি শুধু একজন নেত্রী ছিলেন না, ছিলেন রংপুরের লাখো মানুষের আশা-ভালোবাসার প্রতীক।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলস ৮০ বছর। কিডনি, হৃদরােগ এবং নতুন করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত প্রায় এক মাস যাবত তিনি ঐ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।