চুয়াডাঙ্গা: গোটা চুয়াডাঙ্গা জেলা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। কুয়াশা বৃষ্টির পানির মতো ঝরছে, আর প্রবাহমান হিমশীতল বাতাসে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে পুরো জেলা। টানা চার দিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে শীতের তীব্রতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের মতে, আরও অন্তত দুই দিন জেলায় একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। এর আগে সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং তখনও বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।
প্রায় প্রতিদিন রাত থেকেই দ্রুত তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত। তীব্র শীতের কারণে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
শীতকবলিত কর্মহীন মানুষের খাদ্যাভাব ও আর্থিক সংকট নিরসনে এখনো কার্যকর কোনো সহায়তা চোখে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ নিম্নমানের কম্বল বিতরণ করে সেই ছবি ও ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারের মধ্যেই দায়িত্ব শেষ করছেন।
এদিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ঠাণ্ডাজনিত রোগী ভিড় করছে। বয়স্ক ও শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শীতের তীব্রতায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়লেও তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।