ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ফ্যাসিবাদের দোসর কর্মকর্তারা বায়াসড হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত ১১টায় কক্সবাজারে দলীয় কার্যালয়ে নিজের মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জনগণের অধিকার, মতামত ও ন্যায়বিচার উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত গণপ্রতিরোধের মুখে পড়বেই। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনের দায়িত্ব নিরপেক্ষ থাকা এবং সংবিধান ও আইনের আলোকে জনগণের স্বার্থে কাজ করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান বাস্তবতায় প্রশাসনের একটি অংশ দলীয় আনুগত্য ও ফ্যাসিবাদী শক্তির ইশারায় পরিচালিত হচ্ছে, যা রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
ড. আযাদ আরও বলেন, জনগণ এখন সচেতন। অন্যায়, অবিচার ও বায়াসড সিদ্ধান্ত আর মেনে নেবে না। প্রশাসনকে জনগণের শত্রু নয়, জনগণের সেবক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দল দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছে। আজ কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের আচরণ সেই অভিযোগেরই প্রমাণ দিয়েছে। আমার আইনজীবীকে যথাযথভাবে যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এ কারণে আমরা পুনরায় শুনানির আবেদন করেছি। আইনে কোথাও পুনঃশুনানি করা যাবে না— এমন কোনো বিধান নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ড. আযাদ বলেন, একই মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং মামলাটি হওয়ার পরও প্রায় দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার জেলা ও থানার বিভিন্ন পর্যায়ের জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।