Tuesday 06 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পাউবোর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে নীলফামারীতে মশাল মিছিল

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪২ | আপডেট: ৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৯

মশাল মিছিল।

নীলফামারী: ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার সীমানায় অবস্থিত বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার খননের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছেন কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বুড়ি তিস্তা এলাকায় হাজারের অধিক মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিভিন্ন মৌজার প্রায় ৩০ হাজার কৃষকের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এলাকাবাসীদের নিয়ে গঠিত ‘জনগোষ্ঠী’ নামের সংগঠনের মুখপাত্র মো. আব্দুল আলিম বলেন, ‘সম্প্রতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিন ফসলি জমিতে উঁচু বাঁধ দিয়ে জলাধার খননের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে কৃষকেরা জমিতে যেতে পারছেন না এবং জমি ছাড়তে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় কৃষকদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। বিনা কারণে ঘটনা সাজিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কৃষকদের বড় ধরনের বিপদে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

আরেক নেতা জাহিদুল ইসলাম জাদু জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশব্যাপি শোক পালন ঘোষণার দিনেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বুড়ি তিস্তা এলাকায় জলাধার খনন প্রকল্প নিয়ে মাঠে নেমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং বিনা কারণে কৃষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের আইনি জটিলতায় ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন আন্দোলনকারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার খননকাজে বাধা, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে দুইটি আলাদা মামলা দায়ের করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জলঢাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জুলফিকার আলী এসব মামলার বাদী। সর্বশেষ দুটি মামলায় ৪২ জন নামীয় ও ৩৫০ জন অজ্ঞাতসহ মোট ৩৯২ জনকে আসামি করা হয়। এর আগে বিভিন্ন ঘটনায় স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলায় প্রায় ৭৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার খনন সরকারের একটি উন্নয়নমূলক কাজ। এতে বাধা দিয়ে অবৈধভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখলকারীরা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি দুই দফায় হামলা চালায়। এ সময় সংরক্ষিত এলাকার আনসার ক্যাম্প ও ঠিকাদারি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ঘটনাগুলো পূর্বপরিকল্পিত ও সংগঠিত বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম জানান, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে দায়ের করা মামলা নম্বর ৪ এবং শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে দায়ের করা মামলা নম্বর ৫-এ দণ্ডবিধির ১৪৩ ও ৪৪৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এক মামলায় ১৯ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ৩০০ জন এবং অপর মামলায় ২২ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ৩৫০ জনসহ মোট ৬৯১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা জমির সীমানা ও মালিকানা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে জলাধার খননকাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমিগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে রেকর্ডভুক্ত এবং নিয়মিত রাজস্ব সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হচ্ছে। বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার খননসহ অন্যান্য উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর