কুমিল্লা: কুমিল্লাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ধারাবাহিক গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত একটি আন্তঃজেলা চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গরু ও অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোরে সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন— কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ফাইবুল মাহমুদ ওরফে সিফাত (১৯), নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মো. বেলাল (৪২), মো. নুর নবী ওরফে সুমন (২৫) এবং গাজীপুর জেলার টঙ্গী পশ্চিম এলাকার মো. রাহাত রাজু (২৮)।
পুলিশ জানায়, কুমিল্লার প্রান্তিক এলাকা ছাড়াও ফেনী, নোয়াখালী ও আশপাশের জেলাগুলোতে গরু চুরি ও ডাকাতির ধরণ একই রকম হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নজরে নেয় জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ গরু ডাকাত চক্র ফেনী থেকে চোরাইকৃত গরু পিকআপযোগে ব্রাহ্মণপাড়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা গরু ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে ৮টি চোরাই গরু, চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপভ্যান, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড কার্তুজ, লোহার কাটার, হাসুয়া, কুড়াল, লোহার রড, চাপাতি এবং সংকেত প্রদানের কাজে ব্যবহৃত দুইটি রকেট প্যারাসুট ফ্লেয়ার উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা চান্দিনা ও লাকসাম থানাধীন এলাকায় সংঘটিত একাধিক গরু ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পূর্ববর্তী অপরাধ ইতিহাস যাচাই করা হচ্ছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামসুল আলম শাহ্ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই সংঘবদ্ধ চক্রটির গতিবিধি নজরে রেখেছিলাম। তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ কুমিল্লা, ফেনী ও নোয়াখালী অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে গরু চুরি ও ডাকাতি করত। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’