Wednesday 07 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ব্রাকসু্’র জন্য পাওয়া যাচ্ছে না প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ২১ জানুয়ারির ভোট অনিশ্চিত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৭ | আপডেট: ৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:০৩

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

রংপুর: ‘থ্যাংকস লেস’ (ধন্যবাদহীন কাজ) দায়িত্ব, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একের পর এক বিরূপ মন্তব্য, বিভিন্ন বাজে ভাষায় মন্তব্য ও ট্যাগ এবং পারিবারিক চাপ— এসব কারণে আসন্ন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে কোনো শিক্ষক দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন। ফলে আগামী ২১ জানুয়ারি নির্ধারিত ভোটগ্রহণ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পর প্রথমবারের এই ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এর আগে, গত ১১ নভেম্বর প্রফেসর ড. মো. শাহজামানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু বারবার ভোটার তালিকা সংশোধন এবং তফসিল পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলের সমালোচনা ও ‘অশালীন আচরণে’র মুখে তিনি গত ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন।

বিজ্ঞাপন

পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। উল্লেখ্য, এটি ব্রাকসু নির্বাচনে প্রধান কমিশনার পদে তৃতীয় পদত্যাগ। এর আগে গত ৫ নভেম্বর প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. ফেরদৌস রহমান দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করেন। পরে ড. শাহজামানকে নিয়োগ দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি ২৬ নভেম্বর পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ১ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ প্রত্যাহার করে দায়িত্বে ফিরেন, কিন্তু আবার সরে দাঁড়ান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তিনবার তফসিল পরিবর্তন হয়েছে। প্রথমে ২৯ ডিসেম্বর, পরে ২৪ ডিসেম্বর এবং সর্বশেষ ২১ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়। ভোটার তালিকায় অসংগতির কারণে ১ ডিসেম্বর নির্বাচন স্থগিত হয় এবং ১০ ডিসেম্বর নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু প্রধান কমিশনারের পদ খালি থাকায় প্রক্রিয়া আটকে গেছে।

শিক্ষার্থীরা এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ। গত ২৩ ডিসেম্বর প্রশাসন ভবনে অবস্থান কর্মসূচি করে তারা দ্রুত কমিশনার নিয়োগ ও নির্বাচনের দাবি তোলেন।

তারা বলছেন, প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পর এই নির্বাচন তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু প্রশাসনের অদক্ষতা ও শিক্ষকদের অনীহা তা বাধাগ্রস্ত করছে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, “ব্রাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করা আমাদের দায়িত্ব এবং শিক্ষার্থীদের জোরালো দাবি। তবে অনেক চেষ্টার পরও শিক্ষকেরা এই পদে আসতে চাচ্ছেন না। শিক্ষকেরা মনে করেন এটি একটি ‘থ্যাংকস লেস’ জব (ধন্যবাদহীন কাজ)। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের থেকে গালিগালাজ শুনতে হয় এবং পারিবারিক চাপের কারণে তারা এই দায়িত্ব থেকে দূরে থাকতে চান।”

উপাচার্য আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি নেই। এক মাসে তিনটি সিন্ডিকেট সভা করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষকরা রাজি না হলে প্রশাসন এককভাবে কিছু করতে পারে না। এমনকি সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপকগণও এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছেন।

তিনি স্বীকার করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের নির্বাচন না হওয়ায় ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সমন্বয়ে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল। তবে সেগুলো সংশোধনের প্রক্রিয়া চললেও শিক্ষকদের অনাগ্রহ এখন প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্বাচনের প্রার্থী, তাদের সমর্থক এমন বেশ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পর প্রথমবারের মতো ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু প্রশাসনের অদক্ষতা এবং দীর্ঘসূত্রিতায় তা পণ্ড হয়ে যাচ্ছে। গত মাসে ভোটার তালিকায় অসংগতির কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়েছে দুবার, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে হতাশ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, “বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের অভাবে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়, যা ক্যাম্পাসে অস্থিরতা বাড়ায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিবাদ বেড়েছে। বেরোবির ক্ষেত্রে, গত নভেম্বরে শীতকালীন ছুটি বাতিলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন হয়েছে, যা নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত। দ্রুত নির্বাচন আয়োজন না করলে শিক্ষার্থীরা আশাহত হবে যা মোটেও কাম্য নয়।”

উপাচার্য বলেন, নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু শিক্ষকদের মধ্যে এই দায়িত্ব নেওয়ার অনীহা দেখা যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, শিগগিরই উপযুক্ত শিক্ষক পাওয়া যাবে এবং নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হবে। তবে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২১ জানুয়ারির ভোটগ্রহণ নিয়ে সংশয় অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

৫ নেতাকে সুখবর দিল বিএনপি
৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১১

আরো

সম্পর্কিত খবর