গাইবান্ধা: জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটিকাপাসিয়া গ্রামের তিস্তানদীর তীরবর্তী ফসলের মাঠ থেকে ‘হিমালয়ান গৃধিনী’ শকুন উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উদ্ধারকৃত শকুনটি রংপুর বন বিভাগের নিকট হস্তান্তর করে ‘টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়র্নমেন্টাল রিসার্চ’র (তির’র) সদস্যরা।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভাটিকাপাসিয়া গ্রামের কছিম আমিন হোসেনের জমিতে শকুনটি অসুস্থ অবস্থায় পড়েছিল। বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানাজানি হলে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদের একটি টিম স্থানীয়দের সহায়তায় শকুনটি ধরে প্রথমে স্থানীয় বন বিভাগে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রাতে রংপুর বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ ও গাইবান্ধা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের পরামর্শে শকুনটিকে রংপুর বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে শকুনটিকে উন্নত পরিচর্যার জন্য দিনাজপুরের সিংড়া জাতীয় উদ্যানের ‘শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যাকেন্দ্রে’ পাঠানো হবে।
আইইউসিএনর প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট সুলতান আহমেদ জানান, হিমালয়ের প্রচণ্ড ঠান্ডা ও হিমঝড় সহ্য করতে না পেরে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এই শকুনগুলো সমতলের দিকে চলে আসে। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সময় এরা অনেক সময় উড়তে পারে না।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে ২৬০টির মতো বাংলা শকুন টিকে আছে। অতীতে ৭ প্রজাতির শকুন ছিল। তারমধ্যে বর্তমানে ‘রাজশকুন’ পুরোপুরি বিপন্ন। তাই, পরিস্থিতি মোতাবেক পরিযায়ী ‘হিমালয়ান গৃধিনী শকুন’ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত এ পাখিগুলো মৃত পশুর মাংস খেয়ে পরিবেশকে রোগব্যাধি থেকে মুক্ত রাখে।