বেনাপোল: মৃত স্ত্রীর পেনশনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেছিলেন স্কুলশিক্ষক স্বামী। পেনশনের আবেদন করে মাসের পর মাস শিক্ষা অফিসে ধর্না দিলেও ফাইল ছাড়েননি কর্মকর্তা। উলেটো ঘুসের দাবিতে দফায় দফায় করা হত হয়রানি।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে ঘুষের ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ হাতেনাতে আটক করা হয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে।
দুদক বলছে, টাকা ও স্বাক্ষীদের বক্তব্য নিয়ে আইনানুগ কার্যক্রম শেষে মামলা করে শিক্ষা কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকালে জড়িত অন্যান্য আসামিদের আইনামলে আনা হবে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন শিরিনা আক্তার। নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট মারা যান। মারা যাওয়ার পর শিক্ষিকার অবসরকালীন আজীবন পেনশন পান তার স্বামী। সেই পেনশনের জন্য গতবছরের ৩০ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেন স্বামী স্কুলশিক্ষক মোহাম্মদ নুরুনবী। আবেদনের পর থেকেই নুরুনবীকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক আশরাফুল আলম দফায় দফায় হয়রানি করতে থাকে। বিভিন্ন সময়ে জেলা কর্মকর্তার অফিসে ধর্না দিয়েও তিনি স্ত্রীর পেনশনের ফাইল সাক্ষর করতে পারেননি। শেষমেশ জেলা কর্মকর্তা নুরুনবীর কাছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। কোন উপায়ন্ত না পেয়ে তিনি জেলা দুদক সমন্বিত কার্যালয়ে অভিযোগ দেন।
দুদুক জানায়, অভিযোগের পরেই বুধবার বিকালে ঘুষের টাকাসহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান নুরুনবী। কার্যালয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুনবীর দাবিকৃত ১ লাখ ২০ হাজার টাকাও দেন তিনি। এর পরেই এদিন সন্ধ্যায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযান চালান। অভিযানে হাতেনাতে টাকাসহ শিক্ষা কর্মকর্তাকে আটক করে দুদক। অভিযানে যশোর দুদক সমন্বিত কার্যালয়ের দুদুকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিনসহ ভুক্তভোগী শিক্ষক নুরুনবী উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক নুরুনবী বলেন, ‘মৃত স্ত্রীর পেনশনের ফাইল সিই করার জন্য অসংখ্যবার জেলা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসেছি। কিন্তু তিনি সই করেনি। তিনি আমাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করেছেন। এক পর্যায়ে এক লাখ ২০ হাজার ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দেওয়াতে তিনি আমাকে শাস্তি হিসেবে ঝিকরগাছার একটি স্কুল থেকে সদর উপজেলার বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন। যেহেতু নিয়ে আমার জেলার কর্মকর্তা; সেই কারণে তিনি আমাকে নানাভাবে দাফতরিক হেনস্তা করতেন। তার কাছ থেকে ও মানসিক হেনস্তা থেকে রেহাই পেতে তার দফতরে তাকে পা জড়িয়ে ধরলেও তিনি আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। উপায়ন্ত না পেয়ে তার দাবিকৃত ঘুষের টাকাসহ আজ তার দফতরে আসি। এমন সময় দুদক তাকে আটক করেছে।’
দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন জানান, ভুক্তভোগী মো. নুরুন্নবীর অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দুদক প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়। এর পর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাক্ষেপে এদিন দুদকের একটি টিম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ প্রদানের পর দুদক সদস্যরা সেই টাকাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় দুদক যশোর কার্যালয়ে মামলা করা হয়েছে এবং আটক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।