ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মহিউদ্দিন ভূঁইয়ার নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (৯ জানুয়ারি)। ২০১৭ সালের এইদিন ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫ টার দিকে ঘুমের মধ্যে তিনি ইন্তেকাল করেন।
গোলাম মহিউদ্দিন ভুঁইয়া নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায় ‘পেয়ারা চেয়ারম্যান’ নামে সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন। স্বাধীনতা পর ১৯৭৩ সালে কসবা উপজেলার ৩ নম্বর বাদৈর ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৭৪ সালে বন্যা ও দুর্ভিক্ষের সময় এলাকার মানুষদের নানাভাবে সহায়তা করে তিনি ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। এ সময় তিনি নিজ বাড়িতে লঙ্গরখানা খুলে অসহায় গরিব-মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তখন দূর-দূরান্ত থেকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে ক্ষুধার্ত মানুষ একবেলা খাওয়ার জন্য চেয়ারম্যান বাড়িতে আসতেন।
এ ছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিজ এলাকার শত শত তরুণ-যুবকদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। পাশাপাশি আগরতলা বর্ডার দিয়ে তরুণ-যুবকদের ভারতে পাঠিয়ে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেন। এ ছাড়া, যুদ্ধের পুরো নয় মাস মুক্তিযোদ্ধাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
ষাটের দশক থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৬০ বছর এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মামলা মোকাদ্দামা থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে এলাকাবাসীর অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করেছেন তিনি। অত্র এলাকায় একজন সালিশি দরবারী হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। উল্লেখ্য, গোলাম মহিউদ্দিন ভূঁইয়া ১৯৩৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন, আর মৃত্যুবরণ করেন ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি।
গোলাম মহিউদ্দিন ভূঁইয়ার নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) প্রয়াতের জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার শিকারপুর ভুঁইয়া বাড়িতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে আত্নীয় স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ করছেন তার ছোট ছেলে সিনিয়র সাংবাদিক ও সারাবাংলা’র হেড অব নিউজ গোলাম সামদানী ভুঁইয়া।