ঠাকুরগাঁও: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসলে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্যের ব্যবস্থা করবে। যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী পাইকপাড়া গ্রামে গণসংযোগের অংশ হিসেবে নির্বাচনি পথ সভায় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপি’র পক্ষ থেকে এসেছি; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, শহিদ জিয়ার দল, বেগম খালেদা জিয়ার দল। আমি আপনাদের কাছে খুব একটা অপরিচিত নই, আপনারা আমাকে চিনেন। এখানে সবাই আমার ছাত্র, এ জন্য সবাই আমাকে আলমগীর স্যার ডাকেন। ওই নামেই পরিচিত এখানকার বাচ্চা-কাচ্চারা আমাকে স্যার ডাকেন। এতো আদরের নাম, প্রিয় নাম আর হয় না। আপনাদের কাছে এই ভালোবাসাই চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ১৫ বছর অনেক কষ্ট করেছি ওই কথাটা আর বলতে চাই না। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের অনেকে জেলে গেছেন। চুরি না ডাকাতি না ভোট দেওয়ার জন্য ওদেরকে জেলে দেওয়া হয়েছে। আমি ১১৭টা মামলার আসামি ছিলাম। জেলে গেছি ১১ বার, আর ৬ বছর জেলে ছিলাম। যারা জেল খাটছে তারা জানে জেল কী জিনিস।’
‘আমরা মাথা নিচু করিনি, মাথাটা উঁচু করে আছি। আমরা ন্যায়ের পথে আছি, সত্যের পথে আছি। আমরা চাই ভোট দিতে চাই। সোনাদানা গহনা তো চাই না। ভোটটা আমার অধিকার, ভোটটা আমাদেরকে দিতে দেয় নাই হাসিনা সরকার। যারা দিতে গিয়েছে তাদেরকে জেলে দিছে, গুলি করেছে। তারা এখন ছাত্র আন্দোলনে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যারা আওয়ামী লীগ করত, নৌকাতে ভোট দিত তাদেরকে বিপদে রেখে দেশ ছেড়ে পালাল। এ রকম নেতা আমরা চাই না। যে বিপদে রেখে চলে যাবে। আমরা দেশ ছেড়ে চলে যাইনি। আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলছেন, অন্য কোনো দেশে আমার বাড়ি নাই বাংলাদেশে আমার বাড়ি। এখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ‘
তিনি আরও বলেন, বেগম জিয়ার জানাজায় মাঠের কোনো জায়গায় ফাঁকা ছিল না। গোটা বাংলাদেশের লোক গেছিল তার জানাজায় শরিক হতে, তার জন্য দোয়া করতে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুল হামিদ, আবুল কাশেম, গোলাম কিবরিয়াসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।