Tuesday 27 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বদিউজ্জামান হত্যা মামলা: স্বামী-স্ত্রী ছেলেসহ ১০ আসামির যাবজ্জীবন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:১২

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ এর আদালত।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে বদিউজ্জামান হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রী-ছেলেসহ ১০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ এর আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এই দণ্ডাদেশ দেন।

দায়রা জজ-১ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামসুজ্জোহা শাহান শাহ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রায় ঘোষণার সময় আদালতে ৬ আসামি উপস্থিত ছিলেন। বাকি ৪ আসামি পলাতক রয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কামারখন্দ উপজেলার ময়নাকান্দি গ্রামের আবু সাঈদ, তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, ছেলে মনির হোসেন। একই গ্রামের সাহেব উদ্দিন, সোহেল রানা, শাহজাহান মন্ডল, শফিকুল ইসলাম. এরশাদ শেখ, রমজান আলী ও আবুল কালাম আজাদ।

বিজ্ঞাপন

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কামারখন্দ উপজেলার ময়নাকান্দি গ্রামে বদিউজ্জামান নিজ গ্রামের দবির মন্ডলের ছেলে আলমের নিকট থেকে ২০১১ সালে ৩ শতক জমি দলিল মূলে ক্রয় করেন। ওই জমিতে প্রতিবেশি আবু সাঈদ বাড়ি করে জমি দখল করে নেয়। জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হলে আসামিরা হত্যার হুমকি দেয়। বদিউজ্জামান জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

এছাড়া বদিউজ্জামান ও আসামি আব্দুস ছাত্তার ইউনিয়ন পরিষদে মেম্বার পদে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে আব্দুস সাত্তার পরাজিত হন। পরাজয়ের জন্য তিনি বদিউজ্জামান দায়ী করেন। জমি সংক্রান্ত ও ইউপি নির্বাচন নিয়ে বদিউজ্জামান ও আসামিদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ২০১১ সালের ২৪ জুন বদিউজ্জামান জমির কাগজপত্র নিয়ে সকালে আইনজীবীর অফিসে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। এর পর বদিউজ্জামান আর বাড়ি ফিরে আসেনি। পরিবারের লোকজন তার সন্ধান করে খোঁজ পায়নি। পরের দিন ২৫ জুন সকালে ময়নাকান্দি সাইফুল ইসলামের ঘুমচি ক্ষেত থেকে বদিউজ্জামানের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পরিবারকে খবর দেয়। পরে তারা ঘটনাস্থলে পৌছে বদিউজ্জামানের মরদেহ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রতনা বেগম ওরফে সুফিয়া বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে কামারখন্দ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে পুলিশ। আজ এ মামলার রায় ঘোষণা করে আদালত।