Thursday 29 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পঞ্চগড়ে পক্ষপাতের অভিযোগে রিটার্নিং অফিসারের পদত্যাগ দাবি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৩

পঞ্চগড়ে রিটার্নিং অফিসারের পদত্যাগ দাবি

পঞ্চগড়: পঞ্চগড়-১ আসনে নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়নে প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ সায়েমুজ্জামানের পদত্যাগ দাবি করেছে ১১ দলীয় জোট।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রায় ৫ ঘণ্টা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান ও বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এসময় বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের।

বিক্ষোভকারীরা আন্দোলনে অভিযোগ করেন, পঞ্চগড়-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলমের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যানার ও ফেস্টুন টানালেও, সেগুলো অপসারণে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর ব্যানার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি তাদের।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে আন্দোলনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায়, রাত সাড়ে ১০টায় আন্দোলনের মাঝে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানের পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে সাময়িক আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করে বক্তারা। অতিলম্বে দাবি মানা না হলে আবারও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেয় বক্তারা।

এ সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পঞ্চগড়ের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী বলেন, আমরা আমাদের যুক্তিসম্মত দাবি নিয়ে এসেছিলাম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুনের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একই সাথে বারবার আমরা সময় বেঁধে দিলেও তারা তেমন কোনো সাড়া পাইনি। আমরা রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। এদিকে তেঁতুলিয়ায় উঠান বৈঠক করতে নাকি অনুমতি লাগবে- এ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আদৌ কি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? এ অবস্থায় আমরা মনে করছি- এই ডিসি এখানে থাকার মতো অবস্থায় নেই। তাই আমরা আমাদের দাবির পাশাপাশি এক দফা দাবি জানিয়েছি ডিসির পদত্যাগ করতে হবে।

এদিকে পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্ট ও পঞ্চগড় শহর জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি নাসির উদ্দীন সরকার, বলেন, আমরা ৫টি দাবি জানিয়েছি। দাবিগুলো হলো- (১) গত ফ্যাসিস্ট আমলে ৩টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে যেসব প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের গেজেট থেকে বাদ দিতে হবে। (২) দলীয় পদধারী কোনো ব্যক্তি প্রিসাইডিং বা পোলিং অফিসার হতে পারবেন না- তিনি যে দলেরই হোন না কেন। (৩) যারা এর আগে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার ছিলেন না, বিশেষ করে মাদ্রাসার শিক্ষকরা-যারা এতদিন বঞ্চিত ছিলেন-তাদের এ কাজে নিয়োগ দিতে হবে। (৪) তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কোনো এক রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাকে অতিলম্বে অপসারণ করতে হবে। (৫) পঞ্চগড়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামানকে পদত্যাগ করে চলে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করেছি। তারা আমাদের কাছে ১২ ঘণ্টা সময় চেয়েছে। তাদের অনুরোধে আমরা আমাদের কর্মসূচি আগামীকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করছি।

আন্দোলনের বিষয়ে পঞ্চগড়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশনে আমরা সব ছবি পাঠিয়েছি। এটা আমি তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যা করবে- সে অনুযায়ী কাজ করবো। এদিকে কমিশন তাদের নির্বাচন কমিশনে আবেদন করতে বলেছেন বলে আমাকে জানিয়েছে।

সারাবাংলা/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো