Friday 30 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা জটিলতার মাঝেও সচল বেনাপোল বন্দর

লোকাল করেসপন্ডেন্ট
৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১০

ছবি: সংগৃহীত

বেনাপোল: ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ বেনাপোল স্থলবন্দর, ভিসা জটিলতা ও বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার মাঝেও সচল রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে যাত্রী পারাপার হ্রাস পেলেও, বর্তমানে বাণিজ্য ও চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে যাত্রী চলাচল এবং পণ্য আমদানি-রপ্তানি চালু রয়েছে। তবে, নতুন ভিসা নীতি ও পণ্য আমদানিতে বিধি-নিষেধের ফলে বাণিজ্যে ধস এবং যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বেনাপোল রুটে বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাতায়াতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, বুধবার বাংলাদেশি ১০০ টাকার বিনিময়ে মিলেছে ৭৬.৫০ ভারতীয় রুপি এবং ভারতীয় ১০০ রুপিতে বাংলাদেশি টাকা পাওয়া গেছে ১২৭ টাকা। প্রতি ইউএস ডলারের ক্রয় মূল্য ছিল ১২৫ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১২৬ টাকা।

বিজ্ঞাপন

বন্দরের তথ্য মতে, বেনাপোল ও পেট্রাপোল মধ্যে সকাল ৯ টা থেকে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়। এবং বাণিজ্য শেষ হয় রাত ১০ টায়।

বুধবার দিনভর ভারত থেকে আমদানি হয় ২৮৩ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য এবং ১৪টি ট্রাক চ্যাসিস। অন্যান্য আমদানি পণ্যের তালিকায় ছিল শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, শিশু খাদ্য, মেশিনারিজ দ্রব্য, অক্সিজেন, বিভিন্ন প্রকারের ফল, চাল, পেঁয়াজ, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য। একই দিনে বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছে ৬৭ ট্রাক পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা টিস্যু মেলামাইন, কেমিক্যাল, হিমায়িত মাছ ও ওয়ালটনের পণ্য সামগ্রী।

ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় কারণে বেনাপোল স্থলপথে পাট, পাটজাত দ্রব্য তৈরি পোশাক,কাঠেরর তৈরি আসবাবপত্রসহ কয়েকটি পণ্য রফতানি হয় না। দেশীয় শিল্প সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিষেধাজ্ঞায় সুতাসহ কয়েকটি পণ্য আমদানি সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বন্ধ আছে।

এদিকে বুধবার বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত পচনশীল আমদানি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাক প্রতি ভাড়া ছিলো ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা, চট্রগ্রাম ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা,খুলনা ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ও বরিশাল ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। তবে পচনশীল জাতীয় কাচামাল ছাড়া অন্যান্য পণ্য পরিবহনে বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রাক প্রতি ভাড়া ছিলো ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা, চট্রগ্রাম ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা, খুলনা ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা ও বরিশাল ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা বলে ট্রান্সপোর্ট সূত্রে জানা গেছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্যের বাণিজ্য হতো। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর দুই দেশের একের পর এক বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞায় আমদানি, রফতানি ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত ৭০ শতাংশ কমে এসেছে। এক বছর ধরে বন্ধ দুই দেশের বাণিজ্য বৈঠক। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই বড় ধরনের বিড়ম্বনা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গত বছরে তার আগের বছরের চেয়ে দেড় লাখ টনের বেশি পণ্য আমদানি কমেছে। চলতি অর্থবছরের গেল ৬ মাসে লক্ষমাত্রার চেয়ে এক হাজার ১২ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। বাণিজ্যে পরিবেশ ফেরাতে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ইমিগ্রেশন তথ্য থেকে জানা যায়, প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৬টা থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে শুরু হয় পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত। ১২ বছরের ঊর্ধ্বে একজন পাসপোর্টধারীকে ভারত ভ্রমণ করতে কর ১০০০ টাকা এবং বন্দর কর ৬১ টাকা বাংলাদেশ সরকারকে দিতে হয়। ৫ বছর থেকে ১২ বছরের নিচে যাত্রীদের ৫৬১টাকা এবং ৫ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে কেবল মাত্র বন্দর কর ৬১ টাকা দিতে হয়। ক্যানসার, প্রতিবনন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভ্রমণ কর মাত্র ৬১ টাকা। এছাড়া চলতি মাস থেকে নতুন করে ভারত অংশে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি ও ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীদের ভ্রমণ কর গুনতে হচ্ছে ৪০০ রুপি ও বিদেশিদের ৮০০ রুপি।

বুধবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে মোট যাতায়াত করেছে ১৫১৩ জন। এদের মধ্যে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছে ৯১৬ জন। এসব যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশি ৭১৬ জন, ভারতীয় ছিল ১৯৯ জন। অন্যান্য দেশের ছিল ১ জন। এসময় ভারত থেকে ফিরেছে ৫৯৭ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশি ৫১৩ জন ও ভারতীয় ছিল ৪ জন। অন্যান্য দেশের ছিল ৪ জন। ৫ আগস্টের পর ভিসা জটিলতায় পাসপোর্টধারী যাতায়াত কমে যায়।

এদিকে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, রেলপথে এসিআই মটরস নামে আমদানিকারকের কেবল ভারত থেকে ট্রাক্টর আমদানি হয়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রেলে অন্যান্য পণ্যের আমিদানি এবং ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বায়ুদূষণে বিশ্বে দ্বিতীয় ঢাকা
৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৬

আরো

সম্পর্কিত খবর