শরীয়তপুর: শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌরুটে দুটি ফেরি হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ায় যানবাহন পারাপারে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। মেঘনা নদী পারাপারের অপেক্ষায় উভয় প্রান্তে অন্তত ৫শতাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, চালক ও ব্যবসায়ীরা। জরুরি সেবার যানবাহন-অ্যাম্বুলেন্স ও কাঁচামালবাহী ট্রাকও দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় রয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ২১ জেলার মানুষ চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে এই নৌরুট ব্যবহার করেন, কারণ এ পথে দূরত্ব তুলনামূলক কম।
দীর্ঘদিন ধরে চারটি ফেরির মাধ্যমে এই রুটে যানবাহন পারাপার হয়ে আসছিল। গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরের পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ‘কস্তুরি’ ও ‘কলমিলতা’ নামে দুটি ফেরি বিকল হয়ে যায়। এতে ফেরির সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে এবং পারাপারে তীব্র সংকট দেখা দেয়।
ফেরি চলাচল ব্যাহত থাকায় শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নরসিংহপুর ঘাট ও চাঁদপুর প্রান্তে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও অ্যাম্বুলেন্সের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীর পাড়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। পণ্যবাহী যানবাহন আটকে থাকায় ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক নিয়ে চট্টগ্রামগামী চালক গফুর বেপারি বলেন, ‘ঘাটে এসে দেখি ফেরি নষ্ট। সারারাত বসে আছি, এখনো পার হতে পারিনি। পদ্মা সেতু ঘুরে গেলে খরচ বেশি পড়ে, তাই এই পথে আসি। মাল বেশি সময় রাখা যাবে না, দ্রুত পার হতে না পারলে বড় ক্ষতি হবে।’
বাসচালক আরিফ হোসেন বলেন, ‘দুই দিন ধরে দুটি ফেরি বন্ধ। গাড়ির দীর্ঘ লাইন হয়ে গেছে। এত সময়েও ফেরি স্বাভাবিক না হওয়া কর্তৃপক্ষের অবহেলা বলেই মনে হচ্ছে। অনেক যাত্রী অপেক্ষা না করে ফিরে গেছেন।’
এদিকে বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, বিকল ফেরি দুটি মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। সংকট নিরসনে ভোলা ফেরিঘাট থেকে ‘কাবেরী’ নামের একটি অতিরিক্ত ফেরি এই রুটে পাঠানো হয়েছে।
নরসিংহপুর ফেরিঘাটের টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট রাসেল হোসেন বলেন, ‘চারটি ফেরির মধ্যে দুটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। এতে উভয় প্রান্তে যানজট তৈরি হয়েছে। আমরা জরুরি যানবাহনগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করাচ্ছি। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’