Friday 30 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই: খৈয়ম

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২২

রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম

রাজবাড়ী: রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবেশ এক ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে আছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই।

তিনি আরও বলেন, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা আনতে পারে, শান্তি আনতে পারে এবং দেশের উন্নয়ন করতে পারে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে বিনোদপুর ভাজনবাড়ী তেতুল তলা মাঠে ১, ২, ৩ নম্বর ওয়ার্ড পৌর বিএনপি ও সকল অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনি জনসভায় সবাইকে উদ্দেশ করে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আজকে দেশে অনির্বাচিত সরকার। একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে দোল খাচ্ছে বাংলাদেশ। কি হবে এই বাংলাদেশের ভাগ্য, কোন দিকে আমরা যাচ্ছি কেউ আমরা বুঝতে পারছি না। তাই বাংলাদেশের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচন।

বিজ্ঞাপন

‘আমাদের প্রত্যেককে ভাবতে হবে নির্বাচনের ভেতর দিয়ে আমাদের এই খানে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে হবে। যদি স্থিতিশীলতা না আসে তাহলে এখনে শান্তি থাকবে না, মানুষ দরিদ্র হবে, যুবকেরা চাকরি পাবে না, কাজ পাবে না। চারিদিকে চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, মাদকের সয়লাভ হয়ে যাবে।‘

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ভুলের কারণে আজকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামের বড় সংগঠন আজকে বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। শেখ হাসিনার রাজনীতির ভুল যদি না হত, তাহলে এমন পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। সেই ভুল হলো জবরদখল করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করা, মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা, মানুষকে ভোট দিতে না দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, একটি গাড়ি রাস্তা দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী না চালালে খাদে যাবে, দুর্ঘটনায় পড়বে। ঠিক তাই হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশের রাজনীতি একটা অনিশ্চয়তা, একটা ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। তাই প্রত্যেকটি মানুষ ১২ তারিখে ভোট দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার গঠন করবেন।

খৈয়ম আরও বলেন, অন্য জেলার মানুষ এখনো আমাদের রাজবাড়ীকে চিনে না, ফরিদপুর রাজবাড়ী বললে চিনে। আর চিনবে কীভাবে, রাজবাড়ীকে যে চিনবে তেমন চেনার মতো কিছুই নেই। আমাদের এলাকার মানুষ দরিদ্র, এটি দরিদ্র এলাকা। এজন্য আমরা ভেবেছি কী করলে এই এলাকা উন্নত হবে। অনেকগুলো বিষয় আমাদের সামনে এসেছে।

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা একটি কমিটি করেছি, সেই কমিটির নাম পদ্মা ব্যারেজ ও ২য় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি। এই কমিটির সভাপতি আমি। এই কমিটিতে অনেক বড় বড় মানুষ আছে, রাষ্ট্রদূতেরা রয়েছে, ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে, অধ্যাপক, গবেষকসহ অনেক বড় বড় জনেরা রয়েছে। আমি আমার নেতা তারেক রহমানকে বললাম, পদ্মা ব্যারেজের না করলে বাংলাদেশ শুকিয়ে যাবে। শুধু রাজবাড়ীর সমস্যা নয়, সারা বাংলাদেশের সমস্যা হবে।

‘আমার নেতা বলেছে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাজবাড়ীতে পদ্মা ব্যারেজ হবে। এ জন্য নির্বাচনি ইশতেহারে পদ্মা ব্যারেজ অন্তর্ভুক্ত আছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নেই, বিশ্ববিদ্যালয় হবে, মেডিকেল কলেজ হবে। আমরা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সব মানুষ একসঙ্গে বসবাস করব।’

নির্বাচনি পথসভাতে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি খলিল মণ্ডলের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল আলম দুলাল, বিএনপি নেতা অর্ণব নেওয়াজ মাহমুদ ঋষিত, মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারজানা ইয়াসমিন ডেইজি, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন সম্রাট, যুব দলের সাবেক সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি, পৌর কৃষক দলের সভাপতি তারেক রহমান শিমুল, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি হারুন-অর-রশিদ, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব বাবলু চক্রবর্তীসহ অনেকেই বক্তব্য দেন। এ সময় জেলা বিএনপি ও বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর