Friday 30 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মুন্সীগঞ্জে একযোগে বিএনপির ৬৭ নেতার পদত্যাগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:২৬ | আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:২৮

মুন্সীগঞ্জ: বিএনপির অভ্যন্তরে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একের পর এক গণপদত্যাগে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো। সদর, গজারিয়া, টংগিবাড়ী, লৌহজং ও সিরাজদিখানা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিট থেকে একযোগে পদত্যাগ করেছেন অন্তত ৬৭ জন প্রভাবশালী নেতাকর্মী। তাদের সঙ্গে আরও ৮৩ জন সাধারণ নেতা-কর্মী দল ছাড়ায় মোট পদত্যাগকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় মুন্সীগঞ্জ বিএনপির সদর অফিস কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগপত্র পাঠ করেন জেলা আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য আতোয়ার হোসেন বাবুল ও সদস্য মাহবুবুর রহমান খান। এ সময় পদত্যাগকারী সকল নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

পদত্যাগকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজয় হাসান (ছোট বিজয়), মুন্সীগঞ্জ শহর ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আশ্রাফুজ্জামান অভি, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আবু বকর মাদবর, জেলা বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রহমান খান, মিরকাদিম পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বকুল, মিরকাদিম পৌর মহিলা দলের সদস্য সচিব জিয়াসমিন আক্তার ময়না, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম শেখ, মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আলমগীর সামি, আধারা ইউনিয়নের মো. দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী নেতারা অভিযোগ করেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন বাণিজ্য, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একতরফা সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন ধরে দলের ভেতরে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। বারবার আপত্তি ও মতামত জানানো হলেও তা আমলে না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই পদত্যাগের ঢেউ এখানেই থামবে না। সামনে আরও অনেক নেতা-কর্মী দল ছাড়তে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ধরনের গণপদত্যাগ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতিকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে। যদিও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিষয়টিকে ‘সাময়িক অসন্তোষ’ হিসেবে দেখছেন, তবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মতে বাস্তব চিত্র অনেক বেশি উদ্বেগজনক।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর