কুমিল্লা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জেল-জুলুম, নির্যাতন, কিছুর মুখেই আমরা দেশ ছাড়িনি; ভবিষ্যতেও ছাড়ব না। আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে জুলাই এসেছে নতুন প্রত্যাশা নিয়ে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কুমিল্লা নামেই বিভাগ বাস্তবায়ন হবে। বিমানবন্দর চালু করতে আর নতুন কাজের দরকার নেই, শুধু উদ্বোধনই যথেষ্ট।
মহানগর আমির ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে কুমিল্লার উন্নয়ন, ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে নেতারা জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুমসহ জোটের বিভিন্ন দলীয় নেতারা। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কুমিল্লা-৪ এর ১১ দলীয় প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।
কুমিল্লার বিভিন্ন আসনের দাঁড়িপাল্লা ও অন্যান্য প্রতীকের প্রার্থীরাও সভায় উপস্থিত থেকে স্থানীয় উন্নয়ন, সংকট, চাঁদাবাজি, গ্যাস সমস্যা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কুমিল্লা বিভাগের দাবির পক্ষে বক্তব্য দেন।
যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বেকার ভাতা নয়, যুবকেরা বলুক ‘আমি বাংলাদেশ’। পরিকল্পিত সন্ত্রাসী পরিবেশ প্রত্যাখ্যান করে ভোটাধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে রাস্তায় নামতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্র থেকে পরিবার পর্যন্ত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে। মেধা–যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশের নেতৃত্ব ঠিক হবে—পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি নয়।’
তিনি আরও বলেন, ১৩ তারিখ থেকে যুবসমাজ নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। গোলামি নয়—আজাদির পক্ষে কণ্ঠ মিলেছে সারাদেশে।
সমাবেশে স্থানীয় বক্তারা দাবি করেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে, কুমিল্লা বিভাগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। কুমিল্লার পরিত্যক্ত বিমানবন্দর উদ্বোধন করা হবে। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক আট লেনে উন্নীতকরণ করা হবে। কুমিল্লার গোমতী নদীর বাঁধ উঁচু করে নির্মাণ করা হবে। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক কুমিল্লা গঠন করা হবে।
শহরের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এলইডি স্ক্রিনে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশ উপভোগ করেন।