রংপুর: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেন তিস্তা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে তিস্তাকে উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন হিসেবে গড়ে তুলবেন এবং নদীপাড়ের সংকটকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করবেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর তীরে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।
ইশতেহারে তিনি যে খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তা হলো— তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বিত পরিকল্পনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, নরমাল ডেলিভারি নিশ্চিত করতে আলাদা সেন্টার, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা বেগবান করা, কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমন্বয়।
এ ছাড়া বৈদেশিক কর্মসংস্থান, দক্ষ জনশক্তি রফতানি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, কুঠির শিল্প ও পাটপণ্যভিত্তিক অর্থনীতি — স্থানীয় কাঁচামালভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা।
এ ছাড়াও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিত— সরকারি বরাদ্দের অর্থ ও ব্যয়ের খাত প্রদর্শনের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে বিলবোর্ড স্থাপনের কথা উল্লেখ করেছেন।
আখতার হোসেন বলেন, ‘নদীর তীরে গড়ে ওঠা সভ্যতা আজ সংকটময়। সেই সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দিতে তিস্তাকে উত্তরের লাইফলাইন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। যা দেব, তা সঠিকভাবে বণ্টন করব। ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করব। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে একটা সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ভিত্তিতে রাজনীতি করি, সেই কারণে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, সাঁওতালসহ সকল জনগোষ্ঠী ১০ দলীয় জোটের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ। সেই নিরাপত্তার চাদরে রেখে দেশকে নেতৃত্ব দিতে চাই।’
আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসনে ১০ দলীয় জোটের (এনসিপি-জামায়াতসহ) প্রার্থী। জামায়াতের প্রার্থী এটিএম আজম খান জোটের সিদ্ধান্তে আসনটি ছেড়ে দিয়ে আখতার হোসেনকে সমর্থন জানিয়েছেন।