Sunday 01 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অন্তর্বর্তী সরকারকে চালাচ্ছে বাইরের অদৃশ্য শক্তি: জিএম কাদের

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:১৪

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী জিএম কাদের।

রংপুর: জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী জিএম কাদের বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বাইরের কোনো শক্তির প্ররোচনায় চালানো হচ্ছে এবং তারা আধিপত্যবাদ কায়েমের চেষ্টা করছে।

তিনি গণভোটকে ‘গোলামি’ বলে কটাক্ষ করে বলেন, ‘তারা বলছে আজাদি, আমি বলব গোলামি। তারা একটি দেশের গোলামি করার জন্য এসব করছে। তারা বলছে ইনসাফ, আমি বলব চরম বেইনসাফ।’

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রংপুর-৩ সদর আসনের প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে দেশের মানুষের সম্পর্ক কম। তারা কখনো দেশ চালায়নি। তারা বাইরের কোনো শক্তির প্ররোচনায় আধিপত্যবাদ কায়েম করতে চাইছে। দেশের জনগণকে লোভ-লালসা দেখানো হচ্ছে, বলা হচ্ছে ‘হ্যাঁ’ বললেই সব হয়ে যাবে। সব কিছু পেয়ে যাবেন, জীবনের আর কিছু লাগবে না। এভাবে দেশের জনগণকে বোকা বানিয়ে তারা একটি সরকার গঠন করতে চাইছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, ‘একই দিনে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট হতে পারে না। গণভোট করবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। বর্তমান সরকারের গণভোটের আয়োজন বেআইনি। এটি দেশদ্রোহিতা বলে একদিন প্রমাণিত হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধান বদলালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ ভঙ্গ হবে। যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট পাস করানো হয়, তাহলে সংসদ আর সার্বভৌম ও স্বাধীন থাকবে না। সংসদ পরিণত হবে একটি নির্দিষ্ট শক্তির আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে। তাই দেশ ও গণতন্ত্র বাঁচাতে জাতীয় পার্টি না ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশ বাঁচানোর জন্য যেকোনো মূল্যে ‘না’ ভোটকে পাস করাতে হবে। দেশের স্বার্থে ‘হ্যাঁ’ ভোট বয়কট করে জনগণকে ‘না’ ভোট দিতে হবে। এটি কোনো দলীয় বিষয় নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্ন।’

তিনি নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশে চিহ্নিত খুনিদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আর নিরীহ মানুষকে বিভিন্ন মামলা দিয়ে জেলে দেওয়া হচ্ছে। সর্বক্ষেত্রে অন্যায়-অত্যাচার করা হচ্ছে। ইনকিলাব বলে দেশ ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধেই আমাদের সংগ্রাম। আমাদের দেশবাসীকে প্রস্তুত হতে হবে।’

জিএম কাদের আরও বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক, সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থী দেশ গড়তে চায়। এসব থেকে দেশকে রক্ষায় গণভোটে ‘না’ ভোট দিতে হবে। প্রচারে ভালো সাড়া পাচ্ছি।’

জাতীয় পার্টির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘রংপুর বিভাগের সব জায়গায় আমাদের প্রার্থীদের অবস্থান ভালো। বিগত দিনে অন্যায়-অত্যাচারের জন্য আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারিনি। সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে, গণনা ও ফলাফল হলে এবার আমরা অনেক বেশি ভোট ও সিট পাব।’

জামায়াতের সমালোচনা করে জিএম কাদের বলেন, ‘আমাদের দেশে নারী-পুরুষ একসঙ্গে কাজ করে। আমরা নিজ নিজ ধর্ম অন্তর থেকে চর্চা করি। তাই বলা যায় আমরা ধার্মিক, সহানুভূতিশীল ও অসম্প্রদায়িক দেশের মানুষ। একদল বলছে নারীদের চাকরি করা যাবে না। তাহলে যেই পরিবারে একমাত্র মেয়ে রয়েছে, সেই পরিবার কীভাবে চলবে। তারা দাবি করছে নারীরা কাজ করলে সমাজ নষ্ট হয়ে যাবে, খারাপ হয়ে যাবে। ইসলামে তো এমন কথা নেই, তাই এই কথাগুলো তারা কোথা থেকে পেল।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রমান মোস্তফা, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবুসহ অন্যরা।

উল্লেখ্য, জিএম কাদেরের এই বক্তব্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গণভোট প্রচারে বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির স্পষ্ট অবস্থানকে আরও জোরালো করেছে। তিনি এর আগেও বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে সরকারের মেয়াদ বাড়বে এবং সংসদ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে। তাই জাতীয় পার্টি গণভোটকে সংবিধানবিরোধী বলে মনে করে এবং ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জিএম কাদেরের এই অভিযোগ গণভোটের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারে এবং নির্বাচনি মাঠে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর