কুমিল্লা: কুমিল্লায় আকিজ কোম্পানির চিনি বহনকারী ট্রাকচালক আলাউদ্দিন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রধান আসামি নুর হোসেন মুন্নাসহ পাঁচ সদস্যের সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) মধ্য রাতের দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামসুল আলম শাহ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, নোয়াখালীর নুর হোসেন মুন্না (২৮), চট্টগ্রামের মিন্টু বড়ুয়া (৩৬), কুমিল্লার শাহাদাত হোসেন রকি (২৬), বাবলু (৩৯) এবং ফেনীর আমিনুল ইসলাম (৫৫)।
গ্রেফতারের সময় আসামিদের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ডাকাতি হওয়া চিনি এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি জানায়, ১৫ জানুয়ারি বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে ২৭ টন সাদা চিনি নিয়ে যাত্রা করেন ট্রাকচালক আলাউদ্দিন। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও ট্রাক না পৌঁছানো এবং চালকের মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় মালিক জিপিএস ট্র্যাকারের সাহায্যে গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করেন। পরদিন মনোহরগঞ্জের বিপুলাসার বড় কাঁচি এলাকায় মহাসড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় ট্রাকটি পাওয়া যায় এবং ট্রাকের কেবিনেই কম্বল দিয়ে ঢাকা অবস্থায় আলাউদ্দিনের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়।
তদন্তে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে, চালককে হত্যা করে ট্রাক ছিনতাই করে চিনি, কাগজপত্র ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতচক্র। পরে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মনোহরগঞ্জ থানায় হত্যা ও ডাকাতির মামলা হয়।
জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে থানা পুলিশ ও ডিবি যৌথভাবে তদন্ত শুরু করলে একে একে বেরিয়ে আসে ঘটনার পিছনের রহস্য। ফেনী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় পাঁচজনকে। পাঁচজন আসামির মধ্যে দুজন ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জব্দ করা হয় ৯৯ বস্তা চিনি, ৮৪টি খালি বস্তা এবং চিনি প্যাকেজিংয়ের দুটি ইলেকট্রিক মেশিন।
ওসি মো. শামসুল আলম জানান, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন রকির বিরুদ্ধে আগের দুটি এবং বাবলুর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।