বগুড়া: বগুড়ার শাজাহানপুরে বিদেশি রিভলবার ও ১৫ রাউন্ড গুলিসহ একাধিক দেশীয় অস্ত্র মজুদের অভিযোগে শীর্ষ সন্ত্রাসী আতিক হাসানকে (৩০) আটক করেছে সেনাবাহিনী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার সাবরুল এলাকার বাগিনাপাড়া গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আতিক হাসান ওই এলাকার বাসিন্দা এবং শাজাহানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সন্ত্রাসী নুরুজ্জামান নুরুর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য।
জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাশকতা এড়াতে বগুড়া সেনানিবাসের ‘৪০ বীর ব্রিগেড’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহম্মেদ তমালের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ক্যাপ্টেন জানে আলম সাদিফ ও লেফটেন্যান্ট আল ফাহাদসহ সেনাসদস্যরা অংশ নেয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে উপজেলার বাগিনাপাড়া গ্রামে আতিকের বাড়ি ঘেরাও করা হয়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে আতিক বাড়ির ছাদ টপকে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। পরে তার কাছে মজুদকৃত ১টি ব্রিটিশ বুলডগ মডেলের ‘৯ এমএম’ রিভলবার, ১৫ রাউন্ড গুলি, ২টি ম্যাগাজিন ও ১০টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আতিক স্বীকার করেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো শাজাহানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের পলাতক সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান নুরুর।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহম্মেদ তমাল বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ অস্থিতিশীল করতেই নুরু বাহিনীর সদস্যরা এই অস্ত্রগুলো মজুদ করেছিল। উদ্ধারের সময় রিভলবারের ভিতর ৪টি গুলি লোড করা ছিল। আতিকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে হামলাসহ মোট ৫টি মামলা রয়েছে।’
এ ছাড়া শাজাহানপুর থানার এসআই আল আমিন জানান, এ ঘটনায় আতিকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ ও ২৮ জানুয়ারি একই উপজেলায় অভিযান চালিয়ে আরও ৪ জনকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করেছিল সেনাবাহিনী।