সিলেট: যুক্তরাজ্য বিএনপির বার্মিংহাম ওয়েস্ট মিডল্যান্ড শাখার নেতা ও এটিএন বাংলার বার্মিংহাম প্রতিনিধি সাংবাদিক ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কায়সারুল ইসলাম সুমন বাংলাদেশ সফররত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার নিজ বাসভবনে (মাস্টার বাড়ি) তিনি বুকে তীব্র অস্বাভাবিক ব্যথা অনুভব করেন। মুহূর্তে পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সিলেটের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পরই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে সাংবাদিক সুমনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তার আকস্মিক মৃত্যুতে লন্ডন-সিলেটের সাংবাদিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার সময় নিজ গ্রামের অজমির স্কুল প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক ও সামাজিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।
সাংবাদিক সুমনের মৃত্যুতে লন্ডনের বার্মিংহামে সাংবাদিক মহলে গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সহকর্মীরা তাকে একজন স্পষ্টবাদী সাহসী সাংবাদিক ও রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তি হিসেবে স্মরণ করেন। তার পেশাগত নিষ্ঠা ও সাংবাদিকতায় অবদান প্রবাসী গণমাধ্যম অঙ্গনে প্রশংসিত ছিল।
এদিকে, তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান।
বুধবার এক শোকবার্তায় মাহিদুর রহমান বলেন, সাংবাদিক কায়সারুল ইসলাম সুমন এর মৃত্যুতে পরিবারের মত দেশে ও প্রবাসে বিএনপির নেতাকর্মীরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।
তিনি আরও বলেন, তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের এক নিবেদিত প্রাণ। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সংগ্রামে তার অবদান ছিল অপরিসীম। সাংবাদিকতার পাশপাশি কমিউনিটির সেবায় তিনি ছিলেন সর্বদা অগ্রগামী। তিনি সকলের কাছে একজন সজ্জন, বিনয়ী ও সাহসী নেতা হিসাবে সুপরিচিত ছিলেন। তার নেতৃত্বের গুণাবলী সকলের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে আমরা একজন বিচক্ষণ ত্যাগী নেতাকে হারালাম।

অপরদিকে, মৌলভীবাজার-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন মিঠু পৃথক শোকবার্তায় বলেন, সাংবাদিক কায়সারুল ইসলাম সুমন— সমাজ সেবা ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ।
মিঠু আরও বলেন, জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির দর্শন, নীতি ও আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি তার নিজ এলাকা মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় বিএনপিকে একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করতে সাংবাদিক সুমন যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তা আমাদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শোকবার্তায় মাহিদুর রহমান ও নাসির উদ্দিন মিঠু, মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে পরকালে জান্নাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মরহুম কায়সারুল ইসলাম সুমনের স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে এবং অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তার অকাল প্রয়াণে যুক্তরাজ্যের বাংলা কমিউনিটিতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে— তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মন্তব্য করেছেন সহকর্মীরা।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপভোগ করতে পরিবার নিয়ে লন্ডন থেকে দেশে এসেছিলেন। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাজ্যে বিদায় জানান। নির্বাচন শেষে তার যুক্তরাজ্য যাওয়ার কথা ছিল।