নাটোর: নাটারে নির্বাচনি জনসভায় জামায়াত ইসলামীর আমির প্রত্যেক জেলার জন্য একটি করে মেডিকেল কলেজ এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা জামায়াত ইসলামীর উদ্যোগে এবং জেলা আমির ড. মীর নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে নাটোরে নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘একটি দল বেকার যুবকদের অপমান করতে চায়। তারা তাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে চায়। আমরা সরকার গঠন করলে যার-যার শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরির ব্যবস্থা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেয়েদের যাচ্ছেতাইভাবে রাস্তাঘাটে অপদস্থ করা হচ্ছে। বাড়ির বাইরে তারা নিরাপদ নয়।
১১ দল সরকার গঠন করতে পারলে নারীরা নির্বিঘ্নে রাস্তায় চলাচল করতে পারবে। তাদের দিকে কেউ চোখ তুলে তাকালে তাদের প্রতিহত করা হবে।’
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘৬ তারিখের পর একটি দল চাঁদাবাজি, টেম্পো স্ট্যান্ড দখল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলে মেতে উঠেছে। আগামী ১২ তারিখ নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।’
স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিশুদের পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত এবং বৃদ্ধদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে। বিদেশ নয়, দেশের মাটিতেই উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।’
দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘লুণ্ঠনের টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। লাল, কালো বা সাদা টেলিফোন বুঝি না; কোনো তদবির চলবে না এবং আইন সবার জন্য সমান হবে।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশ গড়তে হলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। আমরা জামায়াতের বিজয় চাই না, চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।’
বক্তব্য শেষে তিনি নাটোর ১, ২ ও ৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং নাটোর ৩ আসনের প্রার্থীকে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন।
এ সময় তিনি স্লোগানে নেতৃত্ব দেন এবং সবাইকে আসন অনুযায়ী দাঁড়িপাল্লা এবং শাপলা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান।
এই জনসভায় নাটোরের চারটি আসন থেকে জামায়াত ইসলামীর হাজার-হাজার নেতা-কর্মী দুপুরের পর থেকেই জনসভায় অংশ নিতে শুরু করেন।
জনসভায় ১১ দলীয় জোটের জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি রাশেদ প্রধানও বক্তব্য দেন।