নেত্রকোনা: উপমহাদেশের প্রখ্যাত বাউল শিল্পী, শিল্পকলা পুরস্কারপ্রাপ্ত সুনীল কর্মকার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুতে পরিবার-পরিজনদের মাঝে এবং সঙ্গীতজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে তার শিষ্য নেত্রকোনার কেন্দুয়ার বাউল শিল্পী নয়ন শেখ জানান।
নয়ন শেখ আরও জানান, ওস্তাদ সুনীল কর্মকারের কাছে তালিম নিয়েছেন তিনি। ওস্তাদ সুনীল কর্মকার ছিলেন বাউল জগতে এক অনন্য শিল্পী। বেহালাসহ সঙ্গীতের বিভিন্ন যন্ত্র বাজানোর ক্ষেত্রে তার জুড়ি নেই। বিভিন্ন শিল্পীর গান গেয়ে তিনি দর্শকদের হৃদয় জয় করে নিয়েছিলেন। তার অগণিত শিষ্য রয়েছে।
বাউল জগতের গুণী এ শিল্পী ১৯৫৯ সালে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বারনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা দীনেশ কর্মকার স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ২০২২ সালে তিনি শিল্পকলা পদক পান।
সুনীল কর্মকারের স্ত্রী আশা রানী কর্মকার জানান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি (সুনীল) হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থা গুরুতর হলে চিকিৎসা করেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিনি শুধু একজন গুণী বাউল শিল্পী ছিলেন না, মনের দিক থেকে অনেক বড় মাপের মানুষ ছিলেন। তাকে গৌরীপুরের কলাপাড়ায় সমাহিত করা হবে।
বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নেত্রকোনা জেলা কমিটির সভাপতি শামীম তালুকদার বলেন, ‘আমরা একজন গুণী বাউল শিল্পীকে হারিয়েছি। তার সঙ্গীতে সাধনা ছিল অসাধারণ। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি, শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’
জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান জানান, ‘প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার এভাবে চলে যাবেন কেউ ভাবতে পারেনি। শুধু নেত্রকোনা নয়, সারা বাংলাদেশ জুড়ে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। তার শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’