Friday 06 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অতীতের মতো ভোট কারচুপির সংস্কৃতি আর চলবে না: জামায়াত আমির

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৮

পিরোজপুরে নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুর: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতের ভোট কারচুপি ও নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সংস্কৃতি আর চলবে না। ভবিষ্যতে কেউ ভোট চুরি বা কোনো ধরনের অনিয়মের চিন্তা করলে জামায়াতে ইসলামী তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। ভোট রক্ষায় এখন থেকেই পাহারা শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। এটি একটি গণভোট—যেখানে ‘হ্যাঁ’ মানেই আজাদী আর ‘না’ মানেই গোলামী। তাই ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে দাঁড়িয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য পিরোজপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

যুবসমাজের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করতে চাই না, বরং কাজের ব্যবস্থা করে দিতে চাই। জাতি-ধর্ম কিংবা নারী-পুরুষের কোনো ভেদাভেদ নয়—যার হাতে যে কাজ শোভা পায় তাকেই সেই দায়িত্ব দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, দেশে ইনসাফ কায়েম হলে বাংলাদেশ হবে একটি চলন্ত উড়োজাহাজ। সেই উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন হবে যুবসমাজ আর আমরা থাকব যাত্রীর আসনে। যুবকরাই রকেট গতিতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে হাদি হত্যাকাণ্ডসহ আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ সকল শহিদ হত্যার বিচার করা হবে। একই সঙ্গে দেশের বাইরে পাচার হওয়া দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্পদ ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে এবং তা ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে ব্যয় করা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের যে এলাকা যত বেশি পিছিয়ে পড়েছে, উন্নয়ন সেখান থেকেই শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ।

সমাবেশ শেষে জামায়াত আমির পিরোজপুর-১ ও পিরোজপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। পাশাপাশি পিরোজপুর-৩ আসনে এনসিপি মনোনীত ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ডা. শামীম হামিদীর হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন।

সকাল থেকেই পিরোজপুর জেলার ৭টি উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে এসে জড়ো হন। এতে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধান। এছাড়াও ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনি জনসভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদ এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহুরুল হক।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর