Saturday 07 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পাচার করা টাকা পেটের ভেতর থেকে বের করে আনব: জামায়াত আমির

ডিস্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৫ | আপডেট: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৯

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সিলেট: সিলেটে নির্বাচনি সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা দায়িত্ব পেলে যারা জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে, তাদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে পাচারকৃত টাকা টেনে বের করে আনব।’

শনিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ গত ৫৪ বছর ধরে জুলুমের রাজনীতি চলছে। সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে জামায়াত ইসলামী। তবে আমরা ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পরই ঘোষণা দিয়েছিলাম, দল হিসেবে জামায়াত কোনো জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না। আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা কথা রেখেছেন। দল হিসেবে আমরা প্রতিশোধ নেইনি। নেকে মামলা বাণিজ্য করেছে, কিন্তু আমরা মামলা বাণিজ্য করেনি।’

বিজ্ঞাপন

সিলেট প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও খনিজ সম্পদে ভরপুর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদের হিস্যা সিলেটবাসী পাচ্ছে না। সিলেটের সব এলাকায় এখনও গ্যাস ও বিদ্যুৎ যায়নি। সিলেটের গ্যাস থেকে বিদুৎ উৎপাদন করা গেলেও সিলেটবাসী তার সুফল পাচ্ছে না। সিলেটে বিদুৎ এর সমস্যা প্রবল, চাহিদার চেয়ে অর্ধেক বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। আমরা দায়িত্ব পেলে প্রথমত এগুলোর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’

সিলেটের নদীগুলো কঙ্কালে পরিণত হয়েছে বলে তিনি জানান, এখানকার সবগুলো নদী দখল হয়ে ভরাট হয়ে গেছে। সুরমা-কুশিয়ারা নদী বইয়ের পাতায় দেখা গেলেও বাস্তবে তার কোন অস্তিত্ব নেই। নদী মাতৃক দেশ এখন খালে পরিণত হয়েছে। যার কারনে দেশে প্রতি বছর বন্যায় মানুষের জান-মালের ক্ষতি হয়। দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে পুরো দেশের নদী মুক্ত করা হবে। শুধু নদী খনন নয়, নদীবান্ধব হবে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘আমরা চিংড়ি মাছের মত পেছনে নয় সিংহের মত এগিয়ে যাব। এই দেশে কেউ আর চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কোন অফিস আদালতে কারো ঘুষ নেওয়ার সাহস ও সুযোগ হবে না।’

দেশে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, ‘৫৪ বছরে দেশের টাকা লুট হয়েছে। কেউ ফেরেস্তা ছিলেন না। সবাই চুরি করেছেন কেউ কম বা কেউ বেশি। দুর্নীতি বন্ধ হলে, চুরি বন্ধ হলে উন্নয়নও হবে।’

সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন। কেবল নামেই আন্তর্জাতিক, কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখানে নামে না। আমরা নামে নয় কাজে এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করব।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কৃষকদের কাছে সরঞ্জাম তুলে দেব। কৃষিপন্যের বাজার নিশ্চিত করা হবে। জেলেদের হাতে জাল দেওয়া হবে। জাল যার জলা তার হবে। চা বাগানের সন্তানদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।’

নিজের এক্স অ্যাকাউন্টের একটি পোস্ট নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘একদল মা বোনদের সম্মান দিতে জানে না। আমি এর প্রতিবাদ করেছি এজন্য তারা আমার দিকে মিসাইল ছুড়েছে। আমার এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মা-বোনদের নিয়ে অপমাজনক পোস্ট দিয়েছে। এখন তারা কী বলবে, চোর তো ধরা পড়েছে। কিন্তু এখনো তারা চোরের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। একেই বলে চোরের মায়ের বড় গলা। আমি তাদের মাফ করে দিয়েছি। আমি আর এ নিয়ে কথা বলব না।

সমাপনী ব্ক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি এই সিলেটের সন্তান। আমি এখানে আপনাদের কোলে লালিত হয়েছি। আজ জামায়াতের আমির হিসেবে নয়, আপনাদের একজন সন্তান হিসেবে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের একবার সুযোগ দেন। আমরা দেশের মালিক বনব না। আপনাদের চৌকিদার হব। যার যা মর্যাদা তা নিশ্চিত করব।

সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের নেতারা, জামায়াতের কেন্দ্রিয় ও স্থানীয় নেতারা, সিলেটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।

সবশেষে সিলেটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াতের আমির। এর আগে সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। এবারই প্রথম সিলেটে জামায়াতের সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নারীরা অংশ নেন। সিলেট ছাড়াও শনিবার হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেন জামায়াত আমির।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর