সিরাজগঞ্জ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ জেলার ৯২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৮১টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৭৯টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই চরাঞ্চলে অবস্থিত এবং ভৌত অবকাঠামো ভাঙাচোরা হওয়ায় নিরাপত্তা ও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে এসব কেন্দ্রকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, জেলার মোট ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২৮টি কেন্দ্র দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থিত। এসব এলাকায় সড়ক যোগাযোগ না থাকায় ভোটার ও নির্বাচনি কর্মকর্তাদের যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
তবে চরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে যাতায়াতের জন্য নৌকা, মোটরসাইকেল ও ঘোড়ার গাড়ির ব্যবস্থা, পাশাপাশি অস্থায়ী নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপন, নৌ-পুলিশ মোতায়েন ও অতিরিক্ত টহলের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিশেষ শাখার তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের ৯২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে— অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৭৯টি, ঝুঁকিপূর্ণ ২৮১টি এবং সাধারণ ৪৬৪টি।
ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনের জামায়াত ইসলামী প্রার্থী মাওলানা শাহিনুর আলম বলেন, জেলার কাজিপুর আসনটির অনেক এলাকাই চরাঞ্চলে। এমন বিছিন্ন এলাকায় যদি নির্বিঘ্নে ভোট অনুষ্ঠিত করতে হয়, তাহলে প্রশাসনকে অবশ্যই অতিরিক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি নুরুন নবী বলেন, মোট ১৩১টি সেন্টারের মধ্যে আমরা বেশ কিছু সেন্টার ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছি। আমরা মনে করছি সেখানে কোনো হাঙ্গামা বা বিশৃঙ্খলা হতে পারে। সেজন্য এখানে প্রশাসনকে অবশ্যই বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে।
সিরাজগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চলসহ যেসকল ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র আছে, সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার মতো প্রশাসনের লোক আগে থেকেই নিয়োগ দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিম-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা আশাবাদী কোনো সমস্যা ছাড়াই একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারব।’
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে ৩টি করে আইপি ক্যামেরা বা সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ নয়, এগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বলি। এসব কেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।’