রংপুর: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও রংপুর সিটি করপোরেশনের আংশিক এলাকা) আসনে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য সামিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নোটিশে দুই প্রার্থীকে আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির মতে, অভিযুক্ত কর্মকাণ্ড নির্বাচনের সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ ব্যাহত করতে পারে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক রায়হান সিরাজী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন স্থানে গাছের সঙ্গে ফেস্টুন টানানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হন। এটি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭(গ) লঙ্ঘনের শামিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক রায়হান সিরাজী বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যেকোনো অভিযোগের জবাব আইন অনুযায়ী দেব।’
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন (ধানের শীষ প্রতীক) লিফলেট, হ্যান্ডবিল বা পোস্টার দেয়ালসহ বিভিন্ন স্থানে সাঁটানোর অভিযোগে শোকজ নোটিশ পান, যা একই বিধিমালার বিধি ৭(ক) লঙ্ঘন।
মোকাররম হোসেন সুজন বলেন, ‘নোটিশ এখনো হাতে পাইনি। পেলে যথাযথভাবে ব্যাখ্যা দাখিল করব।’
ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সামিউল আলম বলেন, ‘নির্বাচনি আচরণবিধি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিটি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর জানান, কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের কাছে নোটিশ পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে সতর্ক রয়েছে।
উল্লেখ্য, রংপুর-১ আসনে মোট ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার। এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান) ও জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজীর (মহানগর সেক্রেটারি) মধ্যে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে বাতিল হওয়ায় আসনটি বর্তমানে দ্বিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।