টাঙ্গাইল: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনের ১ হাজার ৬৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যা মোট কেন্দ্রের প্রায় ১৫.০৫ শতাংশ। এর মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। এ সব কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক।
জেলা নির্বাচন অফিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার মোট ১ হাজার ৬৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৬০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ও ৯০৩টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দূরত্ব, কেন্দ্রে আসা-যাওয়ায় অসুবিধা, দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা এবং প্রার্থীর বাড়ির সামনে ভোটকেন্দ্র এসব বিষয় বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলায় মোট ভোট কেন্দ্র ৬ হাজার ৩৪১টি। এ সব আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন। মোট ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার রয়েছে ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২ জন, পুরুষ ভোটার ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৫ জন।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী): আসনে ১৪৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে মধুপুরে ১৫ এবং ধনবাড়ী উপজেলায় ১২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এ আসনে ভোট কক্ষ ৮৪০টি। মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৩ জন।
টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর): এ আসনে ১৩৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে গোপালপুরে ১৫টি এবং ভূঞাপুর উপজেলায় ১৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোট কক্ষ ৮০০টি। মোট ভোটার ৪ লাখ ১৮ হাজার ৬০৬ জন।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল): এ আসটি ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ১২২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোট কক্ষ ৭১৩টি। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮২ হাজার ৭২০ জন।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী): এ আসনটি দুটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে ১১৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোট কক্ষ ৬৮৪টি। মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৭ জন।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর): এ আসনটি ১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে ১৩০টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোট কক্ষ ৯১০টি। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার): এ আসনটি ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনের ১৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে দেলদুয়ার উপজেলায় ১৬টি এবং নাগরপুর উপজেলায় ১৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোট কক্ষ ৮৮৪টি। মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৬ জন।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর): এ আসনটি ১টি পৌরসভা ও ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে ১২৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোট কক্ষ ৭২৬টি। মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭ জন।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর): এ আসনটি ২টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে ১৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে বাসাইল উপজেলায় ৫টি এবং সখীপুর উপজেলায় ৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোট কক্ষ ৭৮৪টি। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮২৬ জন।
জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, তাদের সব কেন্দ্রগুলো ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনে সব কেন্দ্রেই পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর ভোট ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে জেলার ৮টি আসনে ২৪ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ৮ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাবসহ পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হবে।