Tuesday 10 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সৈয়দপুরে ভোট কেনার অভিযোগে জাপার প্রার্থীর অফিস ঘেরাও

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩১

জাপার প্রার্থীর নির্বাচনি অফিস ঘেরাও করে জনতা।

নীলফামারী: নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের নির্বাচনি অফিস টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগে ঘেরাও করেছে জনতা।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া এলাকার শহীদ বদিউজ্জামাল সড়ক (তিলখাজা রোড) সংলগ্ন নির্বাচনি অফিসে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, আওয়ামী লীগ নেতাদের মাধ্যমে ভোটের টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহদী ইমাম পুলিশসহ মোবাইল কোর্ট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জাপা প্রার্থীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সৈয়দপুর পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক ও তার ছেলের মাধ্যমে ওই নির্বাচনি অফিস থেকে ভোট কেনার জন্য টাকা বিতরণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী দ্রুত পালিয়ে যায় এবং অফিসের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখনও ভেতরে প্রায় ১৫-২০টি মোটরসাইকেল ও বেশ কয়েকজন লোক অবস্থান করছিল।

জানা যায়, জনতা তাদের আটকিয়ে নির্বাচনি অফিসে তল্লাশি চালানোর দাবি জানায়। একপর্যায়ে জনতার চাপে প্রশাসন অফিসের গেটে অবস্থান নেয়, তবে গেট বন্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর অফিসের গেট ও ভবনের বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে ভেতরে থাকা জাপা প্রার্থীর লোকজন পেছনের দেয়াল টপকে পালিয়ে যায় এবং টাকা সরিয়ে ফেলা হয়। এ সময় বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে। এতে প্রায় ২০-২৫ জন আহত হয়। এরপর নির্বাচনি অফিসে তল্লাশি চালানো হয়।

এ দিকে ঘটনার সময় কিশোরগঞ্জ উপজেলা থেকে একটি কার ও একটি মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন সৈয়দপুরে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাদের ঘিরে ধরে। জনতার হাতে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাওয়ার্দী গ্রেনেড প্রায় ৩৫ হাজার টাকাসহ আটক হন এবং পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে জানা যায়, তিনি এনটিভির অনলাইন সংবাদকর্মী। গভীর রাতে সৈয়দপুরে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট মেহদী ইমাম বলেন, ‘জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে জাপার প্রার্থীর নির্বাচনি অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে সেখানে কোনো টাকা বা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী পাওয়া যায়নি।’

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে জাপা প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম তার নির্বাচনি অফিসে মব সৃষ্টি করে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ করেন। তিনি ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে দায়ী করে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

এর আগেও কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচণ্ডী ইউনিয়নের বাফলার বিল মাস্টারপাড়া এলাকায় ভোট কেনার অভিযোগে বিএনপি নেতা-কর্মীরা জাপা প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমকে তার দুইটি গাড়িসহ আটক করে। ওই সময় টাকার ব্যাগসহ দুইজন পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় সিদ্দিকুল আলম বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

 

বিজ্ঞাপন

রাজবাড়ীতে ব্যালট পেপার পাঠানো শুরু
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৪

জামায়াতের গানে শাকিব খান!
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৪

আরো

সম্পর্কিত খবর