Tuesday 10 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নির্বাচন ঘিরে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, কক্সবাজারে পর্যটনে স্থবিরতা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৮

নির্বাচন ঘিরে যান চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ।

কক্সবাজার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই কক্সবাজারের পর্যটনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকায় এ সময়ে পর্যটক সমাগম প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটের পরদিন পর্যন্ত কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলে বর্তমানে ১০ শতাংশেরও কম কক্ষ বুকিং রয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো ধরনের অঘটন এড়াতে পর্যটকদের ভোটের আগে কক্সবাজারে আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও।

বিজ্ঞাপন

মেরিন ড্রাইভ হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ‘অনেক বছর পর দেশে একটি স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সব পেশার মানুষ ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় ছুটছেন। হোটেল খাতের কর্মীরাও এর বাইরে নন। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, যানবাহন চলাচলে কিছু বিধিনিষেধ থাকবে। কক্সবাজারে এসে যদি ঘোরাফেরা করা না যায়, তাহলে বেড়াতে আসার আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।’

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, কার, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে সিএনজি ও অটোরিকশা চলাচল সীমিত করা হচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে তল্লাশি চলছে। যৌথবাহিনী এরই মধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, অযৌক্তিক কারণে ভিন্ন এলাকার লোকজন পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোগান্তি এড়াতে আমরা এই তিন দিনের জন্য বুকিং নিরুৎসাহিত করছি।’

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাব ও ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘নির্বাচনের আগে-পরে মিলিয়ে তারকা হোটেলগুলোতে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে। তবে এসবের সিংহভাগ বিদেশি নাগরিক। সাধারণ মানের হোটেলগুলোতে বুকিং নেই বললেই চলে। কিছু মানুষ সৈকতে এলেও তাদের অধিকাংশই স্থানীয় বা আশপাশ এলাকার। মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই ত্রয়োদশ নির্বাচন পর্যটন এলাকায় নীরবতা এনে দিয়েছে। তবে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য এই নির্বাচন নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের বিপণন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নুর সোমেল বলেন, ‘তিন দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে। এর অর্ধেক বিদেশি এনজিও কর্মী, যাঁরা চাকরির প্রয়োজনে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। নিরাপত্তার কারণে তারা নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত হোটেলেই থাকবেন। নির্বাচনকালীন সময়ে বেড়াতে আসার বিষয়ে অনেকেই খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে চলাচলে ভোগান্তির কথা জানানো হলে বেশিরভাগই ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করছেন।’

আরেক তারকা হোটেল কক্স টুডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আবু তালেব শাহ জানান, তাদের দুই শতাধিক কক্ষের মধ্যে মাত্র ২০-২৫টি কক্ষ বুকিং রয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে পর্যটক আসতে নিরুৎসাহিত করায় বুকিং কমে গেছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার সৈকতের বেলাভূমিতে কথা হয় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক আবিদুর রহমান ও তার স্ত্রীর সঙ্গে। তারা জানান, নির্বাচনের পরদিন ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তারা সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারে এসেছিলেন। কিন্তু রাত থেকে যান চলাচল সীমিত হবে জানতে পেরে ও ভোট না দিয়ে নিজ এলাকার বাইরে থাকার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে আইনি ব্যবস্থার কথা জানতে পেরে তারা সিদ্ধান্ত বদলেছেন। রাতেই ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। তাদের মতো আরও অনেক পর্যটক ফিরে যাচ্ছেন বলেও তারা জানান।

তারকা হোটেল সায়মানের ফোকাল পয়েন্ট আসাদুজ্জামান নূর জানান, হোটেলটির দুই শতাধিক কক্ষের মধ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৫০টি কক্ষ বুকিং রয়েছে। এর বেশির ভাগই বিদেশি অতিথি।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ. এন. এম. সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সবাই যেন ভোট দিতে পারে, সেজন্য সরকারি ছুটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সময়ে নিজ এলাকা ত্যাগ করা দৃষ্টিকটু। নিজ এলাকার বাইরে অবস্থানরত ব্যক্তিরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে – এমন বিবেচনায় কঠোরতা নিশ্চিত করা হবে। ভোগান্তি এড়াতে নির্বাচনের আগে ও পরে মিলিয়ে তিন দিন পর্যটন এলাকায় বেড়ানোর পরিকল্পনা না করাই উত্তম।’

কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এম. এ. মান্নান বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। ভোটের সময় প্রতিটি নাগরিকের নিজ এলাকায় অবস্থান করা উচিত। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্ভব।’

বিজ্ঞাপন

ঢাকাই তারকাদের ভোটের খবর
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪১

আরো

সম্পর্কিত খবর