সিলেট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের ১৮টিতে ভূমিধস বিজয় লাভ করেছে বিএনপি। অপরদিকে জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিস ১টি আসন পেলেও জামায়াতে ইসলামীর ভাগ্যে সিলেটে একটি আসনও জোটেনি। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে বিএনপির একক আধিপত্যে খুশি দলের হাইকমান্ড।
বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে নতুন মন্ত্রিসভার খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে নির্বাচিত ও অনির্বাচিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি ম্যাজিশিয়ান মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনার পথে পা বাড়াচ্ছে বিএনপি।
এদিকে সিলেটে বিএনপির বিপুল বিজয়ে তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকতে পারেন এ নিয়ে নানা জল্পনা ও কল্পনা শুরু হয়েছে। নতুন মন্ত্রী পরিষদে কারা ঠাঁই পাচ্ছেন এ নিয়ে সিলেটের মানুষের মাঝে কৌতূহল বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মত প্রকাশ করছেন তরুণরা। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে সবদিক থেকে সিলেটকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল, সেই ক্ষোভ এখনও মানুষ পুষে রেখেছে। এখন মুখিয়ে আছে সিলেটের জামাই (তারেক রহমান) কি উপহার রেখেছেন পুণ্যভূমির জন্য।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রী সভায় সিলেটের যে ক’জন ঠাঁই পাচ্ছেন তারা হলেন— পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পদে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও পরে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) করা হয়। দলটির বৈশ্বিক সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি দীর্ঘদিন থেকে ভূমিকা রাখছেন।
অর্থমন্ত্রী পদে ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি একজন বিশ্বমানের অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারক। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এ একজন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ভোটের মাঠে ম্যাজিক ম্যান হিসেবে পরিচিত সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নাম রয়েছে মন্ত্রী পরিষদে। এবারের নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে তিনি জয় লাভ করেছেন। নিজের হাতে গড়া আসন ছেড়ে তাকে সীমান্তঘেঁষা সিলেট ৪ আসনে দল মনোনীত করে। কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে তিনি বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের যে-কোনো পদে প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সম্ভাব্য তালিকায় আরও যারা আছেন তারা হলেন- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদে ইলিয়াস পত্নী তাহমিনা রুশদী লুনা। তালিকায় আছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নাম। তিনি সজ্জন ও ক্লিন ইমেজ খেতাব পাওয়া নেতা হিসেবে পরিচিত। মন্ত্রী সভার যে-কোনো পদে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে তার।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন যারা- বিএনপি জোট শরিক দল জমিয়তের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের নাম শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে তাকে ঢাকায় তলব করা হয়েছে। তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ অথবা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার কোনো পদ দেওয়া হতে পারে। কারণ সিলেট ৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর জন্য বিএনপি জোটের নিশ্চিত আসনটি হাতছাড়া হয়েছে। যার কারণে বিএনপি মন্ত্রণালয়ের যে-কোনো পদে উনাকে মূল্যায়ন করতে পারে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী পদ মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা হতে পারেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
এছাড়াও সিলেট বিভাগ থেকে বিএনপি নেতা ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, জিকে গৌছ, সাইফুর পুত্র এম নাসের রহমানের নামও মন্ত্রী সভার জল্পনা কল্পনায় রয়েছে বলে মনে করছেন বিএনপির একটি সূত্র।
মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে ইতোমধ্যে সিলেটের নব-নির্বাচিত বেশ কয়েকজন এমপি তড়িঘড়ি করে আজ ঢাকায় চলে গেছেন। মন্ত্রী সভায় ঠাঁই পেতে জোর লবিং করছেন কেউ কেউ।
তবে মন্ত্রী পরিষদে কে থাকবেন, না থাকবেন তা একান্তভাবে নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর। কারণ তিনিই হবেন এই মন্ত্রিপরিষদের প্রধানমন্ত্রী। তিনি ইচ্ছে করলে যে কাউকে যে-কোনো মন্ত্রণালয় দিতে পারেন।