Sunday 15 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাজবাড়ীতে ১৬ লাখ টাকা নিয়ে উধাও কোচিং সেন্টারের মালিক, মামলা


১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩৯ | আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪৬

রাজবাড়ী: রাজবাড়ীতে শিক্ষার্থীদের ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। এ ঘটনায় ৯ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে কোচিং সেন্টারের মালিক মেহেদী হাসান চিশতিসহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা করেছেন শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার মিতু (১৮)।

রোববার (১৫ই ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় শহরের পান্না চত্বরের নান্নু টাওয়ারের ৩য় তলায় গিয়ে দেখা যায়, কোচিং কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে নিউরন নার্সিং কোচিং সেন্টারের মালিক মেহেদী হাসান চিসতির বক্তব্য নিতে একাধিকবার ফোন করা হলে তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬ ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে আদালত কোচিং সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে মামলাটি আমলে নিয়ে রাজবাড়ী সদর থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে নার্সিং বাদেও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং, বিসিএস কোচিং, মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি কোচিং, ক্যাডেট ভর্তি কোচিং, স্পোকেন ইংলিশ, প্রাইমারীর শিক্ষক নিয়োগ কোচিংসহ সরকারি চাকুরির কোচিং করানো হতো। কিন্তু প্রায় একমাসের বেশি সময় সব কোচিং কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

মামলার বাদী শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার জানান, তিনিসহ প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী রাজবাড়ী শহরের পান্না চত্বরে নান্নু টাওয়ারের ৩য় তলায় নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন দেখে ওই কোচিং সেন্টারে ভর্তির জন্য যোগাযোগ করেন। কোচিং সেন্টারের মালিক ও পরিচালক মেহেদী হাসান চিশতি তাদের জানান, প্রতি শিক্ষার্থী ভর্তি বাবদ ৮ হাজার ২০০ টাকা লাগবে এবং সম্পূর্ণ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে।

কোচিং সেন্টার থেকে তাদের জানানো হয়, সব শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ৫ দিন ক্লাস এবং সপ্তাহে ১ দিন পরীক্ষা এবং প্রতি মাসে সব বিষয়ে মডেল টেস্ট করানো হবে। সব শিক্ষার্থীকে ৮ মাস কোচিং করানো হবে। তখন মাহফুজা আক্তার মিতুসহ ৩০ জন কোচিং সেন্টারের মালিকের কথায় বিশ্বাস করে ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট, ২৮ অক্টোবর ও ১১ নভেম্বর তারিখে নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন।

তিনি আরও জানান, প্রথম ১০ দিন ক্লাস নেওয়ার পর থেকেই পরিচালকসহ তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে ও ক্লাস নেওয়া বন্ধ করে দেয়। ভর্তির সময় তাদের যে বই, প্রশ্ন, ব্যাংক, মডেল টেস্ট বই দেওয়ার কথা ছিল তা না দিয়ে পুরাতন বই দেওয়া হয়।

মাহফুজা আক্তার আরও জানান, কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে পরীক্ষার কথা বলে মাথাপিছু ২০০ টাকা করে নেওয়ার করার পর থেকেই কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ওই কোচিং সেন্টারের মালিক মেহেদী হাসান চিশতীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ক্লাস নিবেন না এবং টাকাও ফেরত দেবেন বলে জানান।

পরে ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় শিক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবকেরা কোচিং সেন্টারের মালিককে পেয়ে ক্লাস নেওয়ার কথা জানালে, তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। ওই সময় তারা তাদের টাকা ফেরত চাইলে কোচিং সেন্টারের মালিকসহ অন্যান্য কর্মচারীরা তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

৫১তম বিসিএস প্রস্তুতির জন্য ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস মীম বলেন, এককালীন ৯ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে তিনমাসে আগে এই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু গত এক মাস ধরে তারা কোনো ক্লাস নিচ্ছে না। কোচিং সেন্টারে গেলে তালাবন্ধ দেখা যায়। তারা আমার সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার জামান রাজিব বলেন, নিউরন নার্সিং কোচিং সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে শিক্ষার্থীর করা মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর