Sunday 15 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কক্সবাজারে ৪ আসনে ১০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৬

কক্সবাজার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। তবে প্রতিটি আসনেই জামায়াত প্রার্থীরা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন। এর বাইরে থাকা প্রার্থীরা ভোটের লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেননি। বিজয়ী প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের এক অষ্টমাংশের কম ভোট পাওয়ায় ১০ জন প্রার্থীর নির্বাচনি জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের চারটি আসনে মোট ১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের আট প্রার্থী ছাড়া বাকি দশজনই জামানত হারিয়েছেন। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চারজন, জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, আমজনতা দল, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এবং এক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের এক অষ্টমাংশ (১/৮) ভোট না পেলে তার নির্বাচনি জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, বিধি অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত হওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, কক্সবাজার–১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন তিনজন। প্রদত্ত ভোট ছিল ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৩৭। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ন্যূনতম ৪৫ হাজার ৩০৪ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ পান ২ লাখ ২২ হাজার ১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল্লাহ আল ফারুক। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. সারওয়ার আলী কুতুবী পান মাত্র ৪ হাজার ৫২৮ ভোট। ফলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৭০৯। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল অন্তত ২৯ হাজার ৮৮ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জিয়াউল হক পান ৮ হাজার ৭৯৯ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল হক পান ৭৫৭ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের এস এম রোকনুজ্জামান খান পান ১৯৭ ভোট। ফলে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

কক্সবাজার–৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ছয়জন। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৪। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৪৪ হাজার ৫৭৪ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন শহীদুল আলম বাহাদুর। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুল ইসলাম পান ৫ হাজার ১৪৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া পান ৯৪৭ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টির জগদীশ বড়ুয়া পান ৬০২ ভোট এবং আমজনতা দলের নুরুল আবছার পান ৩৬৭ ভোট। ফলে এই চার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

কক্সবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ২৩১। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ন্যূনতম ৩১ হাজার ৯০৩ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহাজাহান চৌধুরী ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল হক পান ৪ হাজার ৩৩৮ ভোট এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) সাইফুদ্দিন খালেদ পান ৩৭৯ ভোট। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চারটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে মূল লড়াই হয়েছে। অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মোট ভোটের তুলনায় নগণ্য ভোট পাওয়ায় জামানত রক্ষা করতে পারেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নজরুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে এবারের নির্বাচন ছিল কার্যত দুই দলের শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ। জোটগত রাজনীতির আনুষ্ঠানিক কাঠামো থাকলেও ভোটের মাঠে ভোটাররা মূলত দুই প্রতীকের দিকেই ঝুঁকেছেন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারে ফলাফল যেমন বিএনপির চার আসনে বিজয়ের বার্তা দিয়েছে, তেমনি অন্য দলগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতা ও ভোটভিত্তির সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর