শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে পৌরসভা যুবদলের সভাপতি এসকান্দার ছৈয়ালসহ দুইজনকে আটক করেছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ঈদুল আজহার সময় গরুর হাটের ইজারা নিয়ে এসকান্দার ছৈয়াল এবং পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিন্টু বেপারীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ইয়াছিন নামে এক যুবক নিহত হন। ওই হত্যা মামলায় মিঠু আকন নামে একজন বর্তমানে জেলহাজতে থাকলেও জামিনে বেরিয়ে আসেন ছাত্রদল নেতা রাশেদ ছৈয়াল।
রোববার দুপুরে মিঠু আকনের বড় ভাই টিটু আকন জামিনের বিষয়ে রাশেদ ছৈয়ালের সঙ্গে কথা বলতে গেলে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এসকান্দার ছৈয়াল (৪৫), রাশেদ ছৈয়াল (২৫), মিন্টু ছৈয়াল (৩৫), মিলন ছৈয়াল (৩৯), নজরুল ইসলাম ছৈয়াল (৩০) ও দ্বীন ইসলাম ছৈয়াল (২৮) টিটু আকনকে মারধর করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে টিটু আকনসহ দুইজন আহত হন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এসকান্দার ছৈয়াল ও পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন আকন উভয় পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে হুমায়ুন আকনের ভাই টিটু আকনসহ ২ জন আহত হয়।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুরুতর আহত টিটু আকনকে উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পৌরসভা যুবদলের সভাপতি এসকান্দার ছৈয়াল (৪৫) ও তার চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম ছৈয়ালকে (৩০) আটক করে সেনাবাহিনী। পরে তাদের পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।
আহত টিটু আকনের বড় ভাই দেলোয়ার আকন বাদী হয়ে এসকান্দার ছৈয়ালকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে ভেদরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন আকন বলেন, ‘এসকান্দার ও রাশেদ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। তারা আমার ভাইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে নিজেরা জামিন নিয়ে মহড়া দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসকান্দার ছৈয়াল বলেছিল আমার ভাইকে জামিনে ছেড়ে আনার দায়-দায়িত্ব তিনি বহন করবেন। কিন্তু আমার ভাইকে জামিন না করিয়ে তার ভাই রাশেদ ছৈয়ালকে জামিন করায় এসকান্দার ছৈয়াল।’
ভেদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাসার জানান, পূর্বের একটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আটকদের আদালতে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।