সিলেট: শ্রমিক, কৃষক, মেহনতী মানুষের ন্যায্য অধিকার, চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নানা ইস্যুতে নিয়মিত সিলেটের রাজপথ গরম রাখলেও তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ শ্রমজীবী ভোটারদের মাঝে বামপন্থী দলগুলো নিজেদের বিষয়ে কোনো আবেদনই তৈরি করতে পারেননি। শতকরা ১ শতাংশ ভোট নিজের ঘরে তুলতে পারেননি সিলেটের বাম দলগুলোর প্রার্থীরা।
সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে বেশিরভাগ আসনে চা-বাগান শ্রমিকদের কয়েক লাখ ভোট রিজার্ভ থাকলেও কোনো সময়ে বাম দলগুলো বাগান শ্রমিকদের ভোটের ঘরে হানা দিতে পারেনি। সারাদেশের মত সিলেটের সবগুলো আসনে বাম দলের ভোটের রাজনীতিতে নজিরবিহীন ভরাডুবি ঘটেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাঘা বাঘা ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছোট ছোট ইসলামি দলগুলো প্রার্থী দিলেও কয়েকটি আসনে তাদেরকে জামানত হারাতে হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ৮টি আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বাইরে বাম বিকল্প শক্তির উত্তান ঘটাতে ভোটের ময়দানে বামপন্থী দলগুলো থেকে ১০ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এতে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাকি ছোট ছোট ইসলামি দলগুলো থেকেও কম ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছে বামপন্থী দলগুলো। বেশিরভাগ বাম দলের প্রার্থী এক হাজার ভোটের কোটাও পার করতে পারেননি। আবার কয়েকজনের ভোট দুই হাজারের ঘরেই সীমাবদ্ধ ছিল।
সিলেট-১:
এ আসন থেকে তিনজন বাম দলের শীর্ষ নেতা প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন—বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) প্রার্থী সিলেট জেলা সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পাল, তিনি নির্বাচনে ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ১৩৪টি; বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সিলেট জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন পেয়েছেন ৯০৮টি ভোট। একই আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী ও সিলেট জেলা সমন্বয়ক সঞ্জয় কান্ত দাস ৮০১টি ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
মৌলভীবাজার-২:
এ আসন থেকে বাসদের (মার্কসবাদী) মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নারী সংগঠনের দফতর সম্পাদক সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী (কাঁচি প্রতীক) ৫৯১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৩:
এ আসন থেকে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নেতা জহর লাল দত্ত (কাস্তে প্রতীক) ১ হাজার ৭০৮টি ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৪:
এ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মো: আবুল হাসান (মই প্রতীক) মাত্র ৯৮১টি ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-২:
সুনামগঞ্জ জেলার ৫টি আসনের একটি আসনে বামদল গুলো প্রার্থী দিলেও জামানত রক্ষা করতে পারেনি। সুনামগঞ্জ-২ আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নেতা অ্যাডভোকেট নিরঞ্জন দাস (খোকন) মাত্র ১ হাজার ২৩টি ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। ।
হবিগঞ্জ-১:
এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) (মোটর গাড়ী) প্রতীকে কাজী তোফায়েল আহমেদ ৬৪৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
হবিগঞ্জ-২:
এ আসনের বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) প্রার্থী লোকমান আহমদ তালুকদার মাত্র ৪৪৮টি ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
হবিগঞ্জ-৪:
এ আসনের বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান ৩৩২টি ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
সিলেটের ভোটের মাঠে বামপন্থিদের কেন এই নজিরবিহীন ভরাডুবি-এমন প্রশ্নের জবাবে সিলেট জেলা বাসদের সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পাল সারাবাংলাকে বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতের মূল লড়াই ছিল।’
তিনি বলেন, ভোটের মাঠে বাম দলগুলো প্রচার এবং নির্বাচনি কৌশলের দিক থেকে ছিল পিছিয়ে। বিপরীতে সাংগঠনিক এবং আর্থিক দুরবস্থার কারণে বাম দলগুলোর প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে ন্যূনতম কোনো অবস্থান গড়ে তুলতে পারেননি। ফলে ভোটের দিন তাদের পক্ষে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। মূলত; কালো টাকার ভান্ডার নিয়ে ভোটের মাঠে যারা ছড়িয়ে পড়ে তারাই দিনশেষে ভোটের রাজ্যে ফলাফলে ভাগ বসাতে পারে।