কক্সবাজার: নিরাপদ ও দক্ষ অভিবাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী মিডিয়া কর্মশালায়।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শহরের একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলনকক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রত্যাশীর ‘সিমস’ প্রকল্প। কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি এবং অভিবাসন সংশ্লিষ্ট সরকারি পক্ষ অংশ নেয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবাসী কল্যাণ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (এসি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, বিদেশে গিয়ে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করা প্রবাসীরা সম্মানের দাবিদার। তবে শিক্ষিত, দক্ষ ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের জন্য আরও কল্যাণকর হবে।
তিনি বলেন, ‘সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের কলমের মাধ্যমে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।’
প্রত্যাশীর মনিটরিং ফোকাল ড. এম শাহানুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালা সঞ্চালনা করেন সিমস প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক বশির আহম্মদ মনি (সুফি মনি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামু কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. শাহজালাল, কক্সবাজার ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সহকারী পরিচালকের প্রতিনিধি, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নোমান এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এস. এম. জাফর।
কর্মশালায় সিমস প্রকল্পের কার্যক্রম ও নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে ধারণা তুলে ধরেন প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী রশিদা খাতুন, ‘ভয়েস অব পালং’-এর টিম লিডার ও গণমাধ্যমকর্মী শিহাব জিসান অনিক, সিক্স প্রকল্প কর্মকর্তা তৌহিদা জান্নাত শিমু এবং প্রকল্প কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ।
কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ২৬ হাজার প্রবাসী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলেও অনেকেই ভোট দিতে পারেননি। তিনি অভিবাসীদের সেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের প্রবাসী কল্যাণ শাখাকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী বলেন, ‘প্রবাসীরা আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তারা বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড শক্ত করেছে। তাই তাদের জন্য নিরাপদ অভিবাসন অত্যন্ত জরুরি।’
সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী বলেন, ‘এ ধরনের কর্মশালা সময়োপযোগী উদ্যোগ। গণমাধ্যমকর্মীদের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য বেশি বেশি প্রচার করা প্রয়োজন।’
সভায় উপস্থিত অভিবাসন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সেবা কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তারা দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একই প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় প্রত্যাশীকে ধন্যবাদ জানান।
গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দ অভিবাসন সেবার মানোন্নয়নে সিমস প্রকল্পের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সার্বিক সহায়তা এবং সরকারি সেবাসমূহ প্রচারে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় জানানো হয়, গত ছয় মাসে কক্সবাজার জেলা থেকে পাঁচ হাজার ২০০ জন বৈধভাবে বিদেশে গমন করেছেন। তবে অবৈধ অভিবাসনের নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।