রাজশাহী: রাজশাহীর খোঁজাপুরে এশার নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে গোলাম মোস্তফা (৫০) নামে এক মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় বিএনপি নেতা মো. হাসিবুল মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপি নেতাকর্মীদের দ্বারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে দাবি করে নিহতের পরিবার থানায় এ মামলা দায়ের করেছেন। নির্বাচনের আগেই তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান ভুক্তোভুগীর পরিবার।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিহতের স্ত্রী নাদেরা বেগম বাদী হয়ে মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজহারে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসিবুল মোল্লা, বিএনপি কর্মী মো. উকিল ও শিহাবুল ইসলামের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামীরা রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনুর সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে। ঘটনার পর আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।
আরও পড়ুন: মসজিদে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তের গুলিতে মুসল্লি নিহত
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে নিহতের ভাতিজা চঞ্চলকে ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত হয়। খোঁজাপুর মোড়ে এক দোকানে মালামাল ভাঙচুর কেন্দ্রিক ঘটনায় চঞ্চলকে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, উকিল ও হাসিবুলসহ কয়েকজন ওই মারধরে অংশ নেন। পরে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পালটাপালটি হামলা ও মামলা হয়। একপর্যায়ে নিহত মোস্তফার মাথায় ইটের আঘাত লাগে এবং তাঁর মাথায় ১০টি সেলাই দিতে হয়। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
পরিবারের দাবি, একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা হলেও প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিচার হবে না। নিহতের স্ত্রী নাদেরা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী নিয়মিত নামাজ পড়তেন। অজু করে নামাজে যাওয়ার সময় এমন হলো কেন? আমি এ হত্যার বিচার চাই।
নিহতের ভাতিজী শাকিলা খাতুন বলেন, ‘ওরা বলেছিল, আগে আমরা মারব, তারপর মীমাংসা হবে। ভোটের পরে একটা মরদেহ ফেলে বিচার করব। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর চাচাকে শায়েস্তা করা হবে এমন হুমকিও দিয়েছিল।
মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহতের স্ত্রী তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আগের একটি ঘটনার জেরে বিরোধ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অভিযুক্ত আসামিরা বর্তমানে পলাতক।
উল্লেখ্য, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে নগরের খোঁজাপুর গোরস্তানের পাশের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় একটি ময়দা মিলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন মোস্তফা।