রংপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৪ দিন পর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্র থেকে ৬টি ব্যালট পেপার ও ২টি সিল উদ্ধার হয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুন ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ব্যালট পেপারগুলোর মধ্যে ২টি ধানের শীষ প্রতীকের, ২টি ‘হ্যাঁ’ এবং ২টি ‘না’ ভোটের।
আরও জানা যায়, ব্যালট পেপার ও সিল উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় ঝাড়ু হাতে নারীরা অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ইউএনওকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনা রংপুর-৬ আসনের ফলাফল নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে, যেখানে জামায়াত প্রার্থী সামান্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন এবং বিএনপি পুনর্গণনার দাবি জানাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে স্কুলে শিক্ষার্থীরা এগুলো খুঁজে পায় এবং প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেয়। প্রধান শিক্ষক তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ইউএনওকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে ইউএনও পপি খাতুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে যান, কিন্তু বাইরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ঝাড়ু হাতে নারীরা অবস্থান নেন এবং ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। পুলিশের সহযোগিতায় ইউএনওকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
রংপুর-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে গত তিন দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভোট গণনায় চরম অনিয়ম করা হয়েছে। আমার পক্ষের ৫ হাজারের বেশি ভোট বাতিল দেখানো হয়েছে। পুনর্গণনা না হলে ফলাফল মেনে নেব না।’